মাটির হাঁড়িতে চাল জমিয়ে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন দ্বারিকার গৃহবধূরা
  • ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: এলাকায় কোনো পুজো হত না। মাটির হাঁড়িতে চাল জমিয়ে বিষ্ণুপুরের দ্বারিকার গৃহবধূরা ৪৯বছর আগে গ্রামে দুর্গাপুজো শুরু করেছিলেন। আজও নিষ্ঠাভরে সেই পুজো হয়ে আসছে। মল্ল রাজবাড়ির মতোই এখানে অষ্টমীর সন্ধিক্ষণে তোপ দাগা হয়। স্থানীয় মন্দিরে সাবেকি প্রতিমায় পুজো হয়। পুজোয় প্রায় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। 

Advertisement

পুজো কমিটির সম্পাদক অজয় রায় বলেন, দ্বারিকা ও লাগোয়া মথুরা গ্রামের প্রায় ৫০০টি পরিবার পুজোর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। গ্রামে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষজন পুজোয় আনন্দে মাতেন। তাই আমাদের পুজোয় সম্প্রীতির বার্তা বহন করে। এবার পুজো কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় ডাকঘরের সহযোগিতায় মণ্ডপ প্রাঙ্গণে আধার পরিষেবা শিবির করা হয়। সেখানে আধার কার্ডে ভুল সংশোধন থেকে সেই সংক্রান্ত যাবতীয় পরিষেবা দেওয়া হয়। সভাপতি অরুণকুমার দত্ত বলেন, আগে মল্ল রাজাদের তোপধ্বনি শুনে আমাদের তোপ দাগা হত। নানা শব্দে বর্তমানে সেই আওয়াজ ঢাকা পড়লেও এখনও ছাদে উঠে আকাশে রাজাদের কামানের ধোঁয়া দেখে আমাদের তোপ দাগা হয়। কোষাধ্যক্ষ মৃত্যুঞ্জয় রায় বলেন, আগামী বছর আমাদের পুজোর সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ। তাই এবার বাহ্যিক আড়ম্বর কিছুটা কমানো হয়েছে।
বাসিন্দা রেখা রায়, মাধুরী দত্ত বলেন, আগে আমাদের গ্রামের বাসিন্দাদের পুজো দেখতে যেতে হত তিন কিলোমিটার দূরে দেউলি গ্রামে। রাস্তা ভাল ছিল না। মাঠের আলপথে যেতে হত। মহিলারা পুজো দেখা থেকে বঞ্চিত হতেন। ঩সেজন্য মূলত গ্রামের মহিলাদের উদ্যোগেই পুজো করার সিদ্ধান্ত হয়। তখন আর্থিক সংকট ছিল। তাই প্রত্যেক গৃহবধূ সারা বছর ধরে মাটির হাড়িতে মুঠো মুঠো চাল জমিয়ে রাখতেন। সেই চাল বিক্রি করে ৪৯বছর আগে প্রথম পুজো শুরু করেন। পরবর্তীকালে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের সক্রিয় সহযোগিতায় পুজো হয়ে আসছে।