


নয়াদিল্লি: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে গোটা বিশ্বে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। বাদ নয় ভারতও। আগামীতে বড়ো বিপদ এড়াতে আগেভাগেই সাশ্রয়ের পথে হেঁটেছে নয়াদিল্লি। নির্দিষ্ট করা হয়েছে বাণিজ্যিক এলপিজির বরাদ্দ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। ইরানের হাতে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ভারতের বন্দরে এসেছে দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার। এই আবহে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের বরাদ্দ আরও ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। সব মিলিয়ে মোট বরাদ্দ ইরান সংঘাতের আগের সময়কার ৫০ শতাংশে পৌঁছল। এতে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে রেস্তরাঁ-হোটেল মালিকরা।
যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল ভারতের হোটেল ব্যবসায়। সাধারণ মানুষ যাতে সমস্যায় না পড়ে, তার জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়। অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল গৃহস্থালির সিলিন্ডার ব্যবহারে। পরে ধাপে ধাপে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও সরবরাহ বাড়ানো হয়। সম্প্রতি তা আরও ২০ শতাংশ বাড়ানো হল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রেস্তরাঁ, হোটেল, ক্যান্টিন, কমিউনিটি কিচেন সহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহকারী কেন্দ্রগুলিতে অতিরিক্ত এলপিজি বরাদ্দ করার কথা জানানো হয়েছে রাজ্যগুলিকে। পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সরবরাহের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। তবে এই অতিরিক্ত বরাদ্দ পেতে হলে তেল সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে হবে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংস্থাগুলিকে। পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি সংযোগের জন্য আবেদন করতে হবে। সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দেশে এলপিজি সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে। রান্নার গ্যাসের স্বাভাবিক ডেলিভারি হচ্ছে। যুদ্ধের আবহে কালোবাজারি রুখতে দেশজুড়ে ৩,৫০০-র বেশি অভিযান চলেছে। প্রায় ১,৪০০টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও দাবি প্রশাসনের।