Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

‘হরমুজ বন্ধই’, প্রথম ভাষণে প্রতিশোধের বার্তা মোজতবার, রাষ্ট্রসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব, সায় ভারতের

হরমুজে অবরোধ ও উপসাগরীয় দেশগুলিতে ইরানের হামলার নিন্দা করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তারপর দিনই সুর চড়াল তেহরান।

‘হরমুজ বন্ধই’, প্রথম ভাষণে প্রতিশোধের বার্তা মোজতবার, রাষ্ট্রসংঘে ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তাব, সায় ভারতের
  • ১৩ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দুবাই ও নয়াদিল্লি: হরমুজে অবরোধ ও উপসাগরীয় দেশগুলিতে ইরানের হামলার নিন্দা করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তারপর দিনই সুর চড়াল তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে প্রথম ভাষণেই কড়া বার্তা মোজতবা খামেনেইয়ের। তিনি সাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সেই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ রাখতে হবে। কারণ, এতদিনে সবাই জেনে গিয়েছে আমেরিকার এই  নিরাপত্তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি আসলে মিথ্যা। একই সঙ্গে সুর চড়িয়ে প্রতিশোধের ডাকও দিয়েছেন মোজতবা। তাঁর কথায়, ‘যুদ্ধে শহিদদের জন্য প্রতিশোধ নেবে ইরান। শত্রুপক্ষকে এর ‘মূল্য’ দিতে হবে। এই ক’দিনে সেই প্রতিশোধের কিছুটা নেওয়া গিয়েছে। আপাতত এই প্রতিশোধ নেওয়াটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ 

Advertisement

মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের শীর্ষ নেতার পদে নিযুক্ত হয়েছেন মোজতবা। তারপর এই প্রথম বিবৃতি দিলেন তিনি। ইরানের সরকারি টেলিভিশনে তাঁর এই বিবৃতি পড়ে শোনান সঞ্চালক। মোজতবার দাবি, ‘প্রয়োজনের খাতিরে’ই প্রতিবেশী দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটিগুলির উপরই হামলা চালাচ্ছে ইরান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্কেই বিশ্বাসী। তার সাফ বার্তা, এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করতে হবে। নাহলে হামলা চলবে। 
উল্লেখ্য, আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জর্ডন ও উপসাগরীয় সহযোগিতা কাউন্সিলের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির উপর লাগাতার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। তেহরানের এই পদক্ষেপের নিন্দা করে  বুধবার প্রস্তাব গ্রহণ করে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৩টি। ভোটদানে বিরত ছিল চীন ও রাশিয়া। সহ পৃষ্ঠপোষক হিসাবে প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছে ভারত। প্রস্তাবে ইরানকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। মোট ১৩৫টি দেশ এই প্রস্তাবের পাশে দাঁড়িয়েছে। তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশও। এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে আমেরিকার দূত মাইক ওয়াল্টজ। তাঁর কথায়, ‘আম জনতার উপর হামলা চালিয়েছে ইরানের শাসন ব্যবস্থা। তাদের পরিকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই নিন্দনীয় পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বার্তা দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলি।’ অন্যদিকে পরিষদের এই পদক্ষেপকে ‘অন্যায্য’ ও ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সৈয়দ ইরাভানি। ইরাভানি বলেন, ‘আজ ইরান। কাল যে কোনো সার্বভৌম দেশের সঙ্গে এমনটা হতে পারে।’ উপসাগরীয় দেশগুলিতে হামলা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ‘আমেরিকাকে সফলভাবে আঞ্চলিক যুদ্ধে টেনে এনেছে ইজরায়েল। তবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সংঘাত থেমে গেলে আমরা আবার সহযোগিতার রাস্তায় ফিরব।’

সম্পর্কিত সংবাদ