Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হুগলির নির্বাচনী ফলাফল, তৃণমূলের পক্ষে যাওয়া নিশ্চিত, ফলে বাজি ধরার উৎসাহ নেই নাগরিক মহল্লায়

নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও সন্দেহের জায়গা নেই। ফলে, প্রতিবার স্থানীয় স্তরে ফলাফল নিয়ে বাজি ধরার প্রবণতা এবার একেবারেই নেই হুগলিতে।

হুগলির নির্বাচনী ফলাফল, তৃণমূলের পক্ষে যাওয়া নিশ্চিত, ফলে বাজি ধরার উৎসাহ নেই নাগরিক মহল্লায়
  • ২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিজিৎ চৌধুরী, চুঁচুড়া: নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কোনও সন্দেহের জায়গা নেই। ফলে, প্রতিবার স্থানীয় স্তরে ফলাফল নিয়ে বাজি ধরার প্রবণতা এবার একেবারেই নেই হুগলিতে। ২০২৪ সালেও তৃণমূল কংগ্রেস বনাম বিজেপি ফলাফল নিয়ে বাজি ধরা হয়েছিল। কোথাও এক কেজি খাসির মাংস তো ভরপেট বিরিয়ানির বাজি ধরার চল দেখা গিয়েছিল গ্রাম থেকে শহরে। এমনকি বিধানসভাভিত্তিক ফলাফল নিয়েও গ্রামীণ বাজির আসর ছিল জমজমাট। ২০২৬ সালে এসে সেই ধারা কার্যত হাওয়া। উৎসাহী রাজনৈতিক কর্মী বা স্থানীয় মানুষদের দাবি, তৃণমূল জিতছেই ধরে নিয়ে কেউ আর বাজি ধরতে চাইছে না। এক অর্থে স্থানীয় বাজি রাখার বাজার তাই শুনশান।

Advertisement

হুগলির মগরা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, ভোটের ফলাফল নিয়ে আড্ডার আসরে বাজি ধরা গ্রামীণ এলাকায় স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পরে ফলপ্রকাশের আগে সেই ধারাটা দেখা যাচ্ছে না। স্থানীয়দের কাছে শুনেছি, তৃণমূল ছাড়া অন্যকোনও দল জেতার সম্ভাবনা আছে, এমন ভরসা নেই। তাই একতরফা বাজি কেউ ধরতে চাইছেন না। হুগলির বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, লোকসভাতেও গতবার স্থানীয়দের মধ্যে বাজি ধরা হয়েছিল। মূলত, বলাগড়ে তৃণমূল লিড পাবে না বিজেপি, তা নিয়েই বেশকিছু মানুষ বাজি ধরেছিলেন। এবার তেমন কিছু শুনছি না। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় দলের নেতৃত্বই অবশ্য বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে চাননি। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান অসীমা পাত্র হাসতে হাসতে বলেন, ওগুলো গ্রামীণ আড্ডায় রাজনৈতিক চর্চা থেকে শুরু হয়। তা নিয়ে ভোটের ফলাফলের কোনও আগাম আন্দাজ মেলে না। তবে হুগলি-শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলায় তৃণমূল ১৪টি আসনেই জিতবে। সেই নিরিখে কেউ বিজেপি’র পক্ষে বাজি না ধরলেই তাঁর লাভ। বিজেপি জেলা সভাপতি(হুগলি সাংগঠনিক) গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, ওসব বাজি ধরার সঙ্গে ভোটের ফলাফলকে গুলিয়ে দেওয়া অর্থহীন। তাই ওই বিষয়ে আলোচনা করব না। 

হুগলি জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভোটের ফল নিয়ে বাজি ধরার চল আছে। মূলত, পঞ্চায়েত ও বিধানসভা নির্বাচনেই এসব বেশি হয়। নেহাতই নিজের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকরা বাজি ধরেন। বিষয়টি কোনও জুয়া বা সাট্টার মতো নয়। নিজের মতের স্বপক্ষে নাগরিকরা গ্রামীণ বা শহুরে আড্ডায় বাজি ধরে বসেন। কোথাও বাজি থাকে মাংসভাত বা শুধুই মাংস, কোথাও মিষ্টি, কখনও সখনও টাকাতেও বাজি ধরা হয়। কিন্তু এবারের বিধানসভা ভোটে ফলাফল তৃণমূলের পক্ষে যাবে, সন্দেহের অবকাশ নেই। সেই কারণে বাজি ধরার বিষয়টিই ‘নেই’ হয়ে গিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ