Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

ছুটির মেজাজ

ছুটির মেজাজ
  • ১১ মে, ২০২৫ ০৪:০০

শুরু হয়ে গিয়েছে গরমের ছুটি। কীভাবে কাটবে এবারের গ্রীষ্মাবকাশ, জানাল বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা

Advertisement

পাঠ্যসূচির বাইরে
প্রত্যেক বছরই নানারকম গল্পের বই পড়ি। এবারও ভৌতিক ও বিজ্ঞান সংক্রান্ত বই পড়ব বলে ঠিক করেছি। তবে আমার প্রিয় বিষয় হল অঙ্ক। এবারে গরমের ছুটিতে ঠিক করেছি, বেশি করে পাঠ্যসূচির বাইরের অঙ্ক করব। তারই মধ্যে একটু ঠান্ডার আমেজ নিতে মা-বাবার সঙ্গে উত্তরবঙ্গে ঘুরতে যাব। আগামী দিনে যাতে অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ না পড়ে, তারজন্য পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে দেখতে সময়ের সদ্ব্যবহার করব। আমার কাছে স্কুল মানে একটুকরো খুশির উচ্ছ্বাস।    
—স্নেহজিৎ দাস, অষ্টম শ্রেণি

গন্তব্য দার্জিলিং
গ্রীষ্মের ছুটি মানেই আমার কাছে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দ। আমি যেহেতু পাহাড় ভালোবাসি, 
সেই কারণে এবারে আমাদের 
গন্তব্য দার্জিলিং। ভ্যাপসা 
গরম থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে। আমরা দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন স্থান ঘুরব। চিড়িয়াখানা থেকে শুরু করে বাতাসিয়া লুপ, ঘুম স্টেশন, মহাকাল মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির সহ আরও অনেক দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার জন্য মুখিয়ে আছি। 
আর ট্রয় ট্রেন চড়ে খুব মজা 
করব।
—অভিরূপ রায়, দ্বাদশ শ্রেণি

বেড়াতে যাচ্ছি পুরী
পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার পরই গ্রীষ্মের ছুটির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে যায়। এবার ছুটিতে পুরী যাওয়ার পরিকল্পনা আছে। সকালে সমুদ্রের ধারে সূর্যোদয় দেখার খুব ইচ্ছা আছে। জগন্নাথদেবের মন্দিরে পুজো দেব। এছাড়াও কোনারকের সূর্য মন্দিরে ঘুরতে যাব। দিন সাতেকের পুরী ট্রিপ নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত। পুরী থেকে ফিরে এসে পাড়ায় ফুটবল খেলব, ঘুড়ি ওড়াব। 
—সৌত্রিক মুখোপাধ্যায়, ষষ্ঠ শ্রেণি 

সামাজিক বার্তা
নাটকের প্রতি প্রথম থেকেই আমার আলাদা টান আছে। তাই এবছর আমি শ্রুতি নাটকের দ্বারা সমাজে বিশেষ কিছু বার্তা দিতে চাই। এর আগেও আমি গোয়েন্দা গল্পকেন্দ্রিক বেশ কয়েকটি শ্রুতি নাটক সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছি। সেখান থেকে আশাব্যঞ্জক সাড়াও পেয়েছি। মা-বাবা আমার পাশে আছেন। আমি নাটকের মাধ্যমে কুসংস্কারের অন্ধকার ভেদ করে বিজ্ঞানকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। মোবাইল ফোন যে আমাদের যুব সমাজকে কতটা ক্ষতি করে তার বার্তাও দিতে চাই। পুরো গ্রীষ্মাবকাশের ছুটি জুড়ে এরকম অজস্র পরিকল্পনা রয়েছে আমার। 
—বিপ্রজিত কর্মকার, নবম শ্রেণি

খোলা আকাশের নীচে
গরমের ছুটির জন্য আমি 
বছরভর অপেক্ষা করে থাকি। শহরের একঘেয়েমি কাটানোর জন্য এই ছুটিতে আমি গ্রামের বাড়ি যাই। একটুকরো খোলা আকাশের নীচে কাটাতে আমার বেশ ভালো লাগে। সকালে পাখির ডাকে ঘুম ভাঙে। 
শান্ত, নির্জন গ্রাম আমার বড় প্রিয়। চারদিকে সবুজের সমারোহ। এখানে বেড়াতে 
এলে পুকুরে সাঁতার কাটবই কাটব। সময় পেলেই খেলাধুলো, আম কুড়োতে যাওয়া, গ্রামের রাস্তায় হেঁটে বেড়ানো, পরিচিতদের বাড়ি যাওয়ার পাশাপাশি নিয়ম মেনে পড়াশোনাও করি। এসব 
করতে করতে কীভাবে যে তিন সপ্তাহ কেটে যায় তা বুঝতেও পারি না। 
—ভ্রমরকান্তি সাউ, সপ্তম শ্রেণি

পরিবারের সঙ্গে গভীর বন্ধন
গরমের ছুটি বছরের সবথেকে কাঙ্ক্ষিত সময়গুলির একটি। সারাবছরের পরীক্ষার চাপ, দৈনন্দিন জীবনে মুক্তি পাওয়ার জন্য এ এক দারুণ সুযোগ। এবারের গরমের ছুটিকে আমি শুধু বিশ্রামের জন্য নয়, নিজের উন্নতির কাজেও লাগাতে চাই। ছুটির শুরুতেই আমি গ্রামের বাড়ি যাব। সেখানে প্রকৃতির সঙ্গে বেশ কিছুটা সময় কাটাব। এছাড়া দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে সময় কাটানো, তাদের কাছ থেকে পুরনো দিনের গল্প শোনা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। বন্ধুদের সঙ্গে একটা ছোট পিকনিক বা ভ্রমণের পরিকল্পনাও আছে। তবে শুধু ঘোরাঘুরিই নয়, এই ছুটিতে আমি নতুন কিছু শিখতেও চাই। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে স্পোকেন ইংলিশ ও কম্পিউটার শেখার ইচ্ছাও আছে। পাশাপাশি বই প‌‌‌ড়া, গল্প লেখা, ছবি আঁকাতেও সময় দিতে চাই। মোবাইল ও সোশ্যাল মিডিয়াতে সময় না কাটিয়ে পরিবারের সঙ্গে গভীর বন্ধন তৈরি করাই আমার মূল লক্ষ্য। 
—শুভময় মজুমদার, দশম শ্রেণি

 

বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়

প্রধান শিক্ষকের কলমে

আগামী বছর স্কুলের শতবর্ষ উদ্‌যাপন হবে। গুটি গুটি পায়ে চলছে তারই প্রস্তুতি। সেখানে যোগ দেবে কলকাতা ও শহরতলির বিদ্যালয়গুলি। প্রতিষ্ঠানের আনাচকানাচে লেগে আছে কত বিদগ্ধ মানুষের পাদস্পর্শ। যার পরতে পরতে শুধুই ইতিহাস। এখানেই পড়াশোনা করেছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় ও ঋত্বিক ঘটক, নাট্য ব্যক্তিত্ব শম্ভু মিত্র, সুরকার রাহুল দেব বর্মণ, সিনেমাটোগ্রাফার সুব্রত মিত্র, নাট্যকার নবারুণ ভট্টাচার্য প্রমুখ। 
১৯৩০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত মেধাতালিকা জুড়ে রয়েছে অগুনতি ছাত্র। 
সালটা ১৯২৭। তখন ব্রিটিশ শাসন। পরাধীন ভারতে শুরু হয়েছে শিক্ষার প্রসার। তারই সুদূরপ্রসারী ফল পেতে তৈরি হচ্ছিল শিক্ষক-শিক্ষণ কলেজ।  সেই কলেজের ছাত্ররা  শিক্ষা দানের অনুশীলন করবে কোথায়? স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় তখন স্যাডলার কমিশনের সদস্য। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বদল ঘটল চিন্তা ভাবনার। দক্ষিণ কলকাতায় শুরু হল বীজ বপনের কাজ। ১৯২৭ সালের ৩ জানুয়ারি দ্বারোদঘাটন করলেন বাংলার গভর্নর ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর লর্ড লিটন। ব্রিটিশ আদলে গড়ে উঠল বালিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। সেই চারাগাছ আজ শতাব্দীর দোরগোড়ায়। বহু ঘটনার সাক্ষী বিশাল প্রাঙ্গণ জুড়ে আছে অজস্র গাছ গাছালি, সুন্দর খেলার মাঠ। দাবা, ফুটবল, ক্রিকেটে ছাত্ররা পারদর্শী। স্কুলে নিয়মিত আঁকার ক্লাস হয়। বেহালা, বাঁশি, সঙ্গীতের মূর্ছনায় ডুবে থাকে ছাত্ররা। পড়ুয়ারাই নিয়মিত প্রকাশ করে হাতে লেখা পত্রিকা। এছাড়া মুদ্রিত হয় ম্যাগাজিন ‘বাগ্঩বিতান’। আছে সুন্দর কম্পিউটার ল্যাব, কলা ও বিজ্ঞান বিভাগ। 
লাইব্রেরিতে আছে ব্রিটিশ যুগের ম্যাপ সহ দশ হাজার বই। উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে যা নষ্ট হতে বসেছে। ১২০০ ছাত্র বঞ্চিত হচ্ছে লাইব্রেরি থেকে। লাইব্রেরিয়ান পদটিও শূন্য। শতাব্দী প্রাচীন এই স্কুল হৃত গৌরব ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। চাই সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা। এছাড়া স্কুলের একটি প্রাক্তনী সংগঠন আছে। যাঁরা স্কুলের সময়ে-অসময়ে সর্বদা পাশে থাকেন।
—রণজিৎ গরাং, টিচার-ইন-চার্জ

সংকলক: শম্পা সরকার
ছবি: দীপেশ মুখোপাধ্যায়

 

সম্পর্কিত সংবাদ