Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়ায় প্রাথমিকে পড়ুয়া টানতে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী পর্ষদ

হাওড়ায় প্রাথমিকে পড়ুয়া টানতে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্যোগী পর্ষদ
  • ৮ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শহরের সরকারি প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়াদের পাঠাতে অনীহা বাড়ছে অভিভাবকদের। তাঁদের সিংহভাগই চান সন্তানদের ইংরেজি মাধ্যমে পড়াতে। ফলে বহু সরকারি স্কুলেই কমেছে পড়ুয়ার সংখ্যা। তাই কচিকাঁচাদের সরকারি স্কুলমুখী করতে হাওড়া শহরের একাধিক প্রাইমারি স্কুলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। শহরের পাঁচটি স্কুলকে বেছে নিয়ে ইতিমধ্যেই সেখানে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। শুধু তাই নয়, জেলায় এই প্রথম প্রাথমিকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর জন্য স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে।
Advertisement
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া জেলার ৩৪টি সার্কেল মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৫৯টি প্রাথমিক স্কুল রয়েছে। অধিকাংশ স্কুলেই পড়ুয়ার অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছে। এখন যাতায়াত খুব সহজ হয়ে যাওয়ায় অনেক অভিভাবকই তাঁদের সন্তানদের প্রাথমিক স্তরে হাওড়ার বদলে কলকাতার স্কুলে ভর্তি করছেন। স্বাভাবিকভাবে হাওড়া শহরের বহু স্কুলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে ভর্তির সংখ্যা স্বাভাবিক থাকলেও পরে তা কমে আসছে। তাই ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মতো পরিকাঠামো ও বিজ্ঞানসম্মত পাঠদান পদ্ধতি চালু করে শহরের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে পড়ুয়া টানতে তৎপর হয়েছে পর্ষদ। বাংলার পাশাপাশি ধাপে ধাপে মাল্টিমিডিয়াম স্কুল চালু করতে চাইছে তারা। ইতিমধ্যেই পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে সালকিয়ার সাবিত্রী প্রাথমিক স্কুল ও বেলুড়ের খামারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যম চালু করায় পড়ুয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এবার হাওড়ার আরও পাঁচটি প্রাথমিক স্কুলে ইংরেজি মাধ্যম চালু করতে চলেছে পর্ষদ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘শহরের প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ইংরেজি মাধ্যম চালু করার পাশাপাশি সেখানে এই মাধ্যমের স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’ জানা গিয়েছে, এতদিন চুক্তির ভিত্তিতে বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এনে পড়ানো হতো সরকারি প্রাথমিকে। এখন থেকে সরাসরি টেটের মাধ্যমে প্রাথমিকে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ানোর শিক্ষক নিয়োগ করা হবে। শহরের সাতটি প্রাথমিক স্কুলে ইংরেজি মাধ্যম চালু হলে আগামী বছর এমন স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন কৃষ্ণ ঘোষ। তবে ইংরেজি মাধ্যমে পঠনপাঠনের জন্য স্কুলগুলি যাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে আলাদা করে ফি নিতে না পারে, সেজন্য পর্ষদের তরফে নজরদারি চালানো হবে বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি।
সম্পর্কিত সংবাদ