নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হুগলির সিঙ্গুর, হরিপাল ও চণ্ডীতলা ব্লকে ১৮টি রেলগেটে সাবওয়ে কিংবা আন্ডারপাস তৈরি এবং সিঙ্গুর আন্দোলন লোকাল পুনরায় চালুর দাবিতে পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন হাজার হাজার মানুষ। এই বিক্ষোভ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। পাশাপাশি এদিন তাঁরা ডিআরএম সঞ্জীব কুমারের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেন। সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তির কথা ভেবে রেল সুরাহার পথে না হাঁটলে আগামী দিনে বড়সড় আন্দোলনের নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।
Advertisement
জানা গিয়েছে, হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের জনাই রোড থেকে চন্দনপুর স্টেশন পর্যন্ত ১২টি জায়গায় এবং হাওড়া-তারকেশ্বর লাইনের সিঙ্গুর স্টেশন থেকে হরিপাল পর্যন্ত ৬টি জায়গায় রেলগেট রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই দুই লাইনে ট্রেনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে প্রতিদিন এইসব জায়গার রেলগেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট লেগে থাকে। অফিসের ব্যস্ত সময়ে ভোগান্তি চরমে ওঠে। পাশাপাশি, হাওড়া বর্ধমান কর্ড লাইনে বর্তমানে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের পাশাপাশি রাজধানী, শতাব্দী, বন্দে ভারতের মতো দ্রুতগামী ট্রেন চলাচল করছে। সেকারণে রেললাইনের দু’পাশের অংশ লোহার গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হচ্ছে। যার ফলে সমস্যায় পড়ছেন হাজার হাজার চাষি ও পড়ুয়ারা। অভিযোগ, হাসপাতালে রোগী নিয়ে যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হচ্ছে পরিজনদের। স্কুল-কলেজে যেতেও সমস্যায় পড়ছেন ছাত্রছাত্রীরা। চাষিরা রেললাইন পার করে নিজেদের মাঠে যেতে পারছেন না। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সিঙ্গুর, হরিপাল ও চণ্ডীতলা ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে আন্দোলন, পথসভা করছে তৃণমূল। কিন্তু গ্রামবাসীদের দুর্ভোগ নিয়ে রেলের বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা না থাকায় এদিন ডিআরএম অফিস অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন বেচারাম মান্না। এদিন তিনটি ব্লকের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ ও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে হাওড়া রেল স্টেশনের পাশে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ মিতালি বাগ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক ডাঃ করবী মান্না, স্বাতী খন্দকার, গৌতম চৌধুরী ও হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধাড়া। ১৮টি জায়গায় রেলগেট তুলে সেখানে আন্ডারপাস বা ফ্লাইওভার তৈরির দাবিতে ডিআরএমের কাছে ডেপুটেশন জমা দেন তাঁরা।
বেচারাম মান্না বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা সিঙ্গুর লোকাল তুলে নেওয়া হয়েছে। রেললাইন গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলার ফলে হাজার হাজার চাষি চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। রেল আমাদের দাবি না মানলে বড়সড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’ আগামী দিনে জনাই রোড থেকে চন্দনপুর স্টেশন পর্যন্ত গ্রামবাসীদের নিয়ে রেললাইন ধরে হেঁটে বিক্ষোভ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিনের ডেপুটেশনে হাওড়া-বিষ্ণুপুর লাইনে ভাবদিঘির সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত ট্রেন চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।
বেচারাম মান্না বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা সিঙ্গুর লোকাল তুলে নেওয়া হয়েছে। রেললাইন গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলার ফলে হাজার হাজার চাষি চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। রেল আমাদের দাবি না মানলে বড়সড় আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।’ আগামী দিনে জনাই রোড থেকে চন্দনপুর স্টেশন পর্যন্ত গ্রামবাসীদের নিয়ে রেললাইন ধরে হেঁটে বিক্ষোভ দেখানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। এদিনের ডেপুটেশনে হাওড়া-বিষ্ণুপুর লাইনে ভাবদিঘির সমস্যা মিটিয়ে দ্রুত ট্রেন চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।



