সংবাদদাতা, করিমপুর: এলাকায় কোনও হিমঘর না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয় চাষিদের। পেঁয়াজ সহ উৎপাদিত অন্যান্য ফসল সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। ফলে কম দামে সেই ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষিরা। তাতে অনেক সময়েই আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করতে হয় তাঁদের। বহুদিন ধরে একটি হিমঘরের দাবি জানিয়ে আসছেন চাষিরা। করিমপুরের রহমতপুর কিংবা কাঠালিয়ায় ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ চাষ হয়। আর কিছুদিন পরেই মাঠের পেঁয়াজ উঠবে। পেঁয়াজ বেশিদিন রাখা যায় না বলে প্রতি বছর প্রথম দিকে খুব কম দামে চাষিদের তা বিক্রি করতে হয়। ফলে চাষের খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হয়। নন্দনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঠালিয়ার পেঁয়াজ চাষি সুদর্শন বিশ্বাস বলেন, আগের বছর দু’ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় কুড়ি হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল বিঘা প্রতি প্রায় ত্রিশ কুইন্টাল। বাধ্য হয়ে সেই পেঁয়াজ কুইন্টাল পিছু ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তাতে আসল টাকাই ঘরে ওঠেনি অনেকের। তিনি আরও জানান, ৭- ৮ টাকা দরে এখন পেঁয়াজ বিক্রি করছি অথচ এ বছরেই চাষিদেরই ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পেয়াজ কিনে খেতে হয়েছে। এলাকায় একটি হিমঘর থাকলে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে সময়মতো বিক্রি করা যায়। জয়নাবাদের চাষি অরুণকুমার মণ্ডল বলেন, কার্তিক মাসের শেষে পেঁয়াজ চাষ শুরু হয় এবং মাঘ মাসের শেষে পেঁয়াজ ওঠে। প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের বীজের খরচই কম করে বারো হাজার টাকা। এছাড়াও কয়েকবার সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি সহ খরচ অনেক। এই পেঁয়াজ তোলার পর বেশি দিন রাখা যায় না বলে বাধ্য হয়েই বিক্রি করতে হয়। সে ক্ষেত্রে লাভজনক দাম পান না চাষিরা। নন্দনপুরের আরেক চাষি কাবাজউদ্দিন শেখ জানান, নিজের জমিতে চাষ করে লাভ না হলেও খুব বেশি সমস্যা হয় না। কিন্তু যাঁরা অন্যের জমি লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়। চাষিদের অভিযোগ, শুধু এই এলাকায় নয়, জেলার কোথাও কোনও হিমঘর নেই যেখানে চাষিরা ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন। পেঁয়াজ খুব বেশি হলে ৪-৫ মাস ঘরে ভালো থাকে। ফলে দাম কম থাকলেও চাষিকে বেচে দিতেই হয়। এ ব্যাপারে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের ভাবনা চিন্তা করার দরকার।



