Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নববর্ষ উপলক্ষ্যে হিট কামারপুকুরের সাদা বোঁদে, পাড়ি ভিনজেলায়

নববর্ষ উপলক্ষ্যে কামারপুকুরের সাদা বোঁদে পাড়ি দিচ্ছে ভিনজেলায়। নববর্ষের সকালে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পুজো হয়। অনেকেই পুজোর মাধ্যমে নতুন বছরের ব্যবসা শুরু করেন।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে হিট কামারপুকুরের সাদা বোঁদে, পাড়ি ভিনজেলায়
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: নববর্ষ উপলক্ষ্যে কামারপুকুরের সাদা বোঁদে পাড়ি দিচ্ছে ভিনজেলায়। নববর্ষের সকালে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পুজো হয়। অনেকেই পুজোর মাধ্যমে নতুন বছরের ব্যবসা শুরু করেন। ওইদিন বিভিন্ন দোকানে হালখাতাও হয়। সেই শুভ দিনে অতিথিদের অভ্যর্থনা জানাতে ব্যবসায়ীদের বড়ো অংশ কামারপুকুরের সাদা বোঁদেকেই বেছে নিয়েছেন। তার সঙ্গে অবশ্য মিষ্টিও থাকছে।

Advertisement

কামারপুকুরের সাদা বোঁদের সুখ্যাতি রয়েছে। ফলে তার কদরও আছে বাজারে। দীর্ঘদিন ধরেই সাদা বোঁদে বিভিন্ন জেলা, এমনকী ভিনরাজ্যেও যায়। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না। কামারপুকুরের মিষ্টি ব্যবসায়ী বীরেশ্বর মোদক বলেন, এবার প্রায় পৌনে তিন কুইন্টাল সাদা বোঁদের বরাত মিলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়িতে নববর্ষ উপলক্ষ্যে হালখাতায় সাদা বোঁদে দেওয়া হয়। সেখানে বোঁদে ডেলিভারি দেওয়া হবে। বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমানের দু’টি জায়গাতেও গাজন উপলক্ষ্যে সাদা বোঁদের অর্ডার রয়েছে। এছাড়া, সারাবছরই বেচাকেনা চলে। মঠে আসা ভক্তরাও কেনেন।
কামারপুকুরের বাসিন্দা নিবেদিতা সেন বলেন, নববর্ষের দিন সকালে বাড়িতে পুজো করা হয়। তারসঙ্গে রামকৃষ্ণ মিশনেও ঠাকুর দর্শন করতে যাওয়া আমাদের রুটিন। ওইদিন সাদা বোঁদে ও জিলিপি ঠাকুরের প্রসাদে দেওয়া হয়। বাড়িতে আত্মীয়রা এলে তাঁদেরও বোঁদে খেতে দেওয়া হয়। আমরা বাইরে আত্মীয়, বন্ধুদের বাড়িতে গেলেও সাদা বোঁদে নিয়ে যাই।
অপর বাসিন্দা প্রসেনজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কামারপুকুরের সাদা বোঁদের সুনাম এখন ছড়িয়ে পড়েছে। বাইরে থেকে কেউ এলেও এই সাদা বোঁদের খোঁজ নেন। বাংলা নববর্ষে বাড়িতে কেউ এলে জলের সঙ্গে সাদা বোঁদেই দেওয়া হয়।
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জন্মস্থান কামারপুকুর। এখানে বিভিন্ন দোকানে সাদা বোঁদে তৈরি হয়। বাইরের অনেক ব্যবসায়ী সাদা বোঁদে তৈরির পদ্ধতি শিখে ব্যবসা করার চেষ্টা করেন।
বরবটি কলাইয়ের বীজকে যাঁতায় দোভাঙা করা হয়। তারপর জলে ভিজিয়ে বীজের আঁশ ছাড়াতে হয়। সেগুলি গুঁড়ো করে আতপ বা গোবিন্দভোগ চালের গুঁড়ো দিয়ে ডালডাতে ভাজা হয়। তারপর চিনির রসে ডুবিয়ে সাদা বোঁদে তৈরি করা হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, শীতকালে ফ্রিজ ছাড়া প্রায় ১৫দিন এই সাদা বোঁদে রাখা যায়। গরমেও কয়েকদিন থাকতে পারে। ইতিমধ্যেই কামারপুকুরের সাদা বোঁদে জিআই তালিকাভুক্ত হয়েছে। তার ফলে এই বোঁদে এখন রাজ্য ছাড়িয়ে সারা দেশেও সমাদৃত। 
রোজ কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে বহু ভক্ত আসেন। বিভিন্ন বিশেষ দিনে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। মঠে বেড়াতে এসে ফেরার পথে অনেকেই সাদা বোঁদে নিয়ে যান। ভিনরাজ্য থেকেও অনেকে এসে বোঁদে কেনেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ