


ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন অব্যাহত। এবার যশোরে গুলি করে খুন করা হল এক হিন্দু সাংবাদিককে। মৃতের নাম রানাপ্রতাপ বৈরাগী (৪৫)। তিনি কেশবপুর এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যাচ্ছে। এদিন বিকেল পৌঁনে ছ’টা নাগাদ যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন বাজারে দাঁড়িয়েছিলেন রানাপ্রতাপ। সেই সময় দুষ্কৃতীরা এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় গুলি লাগে। সেখানেই লুটিয়ে পড়েন রানাপ্রতাপ। স্থানীয়রা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তাঁর। এদিকে ঘটনার পরেই কপালিয়া বাজারে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। গত তিন সপ্তাহে এই নিয়ে পাঁচজন হিন্দু ব্যক্তিকে খুন করল দুষ্কৃতীরা। রানাপ্রতাপ স্থানীয় একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক। তাঁর নিজস্ব একটি বরফকলও আছে।
এদিকে, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহে। ধর্ষণের পর ওই মহিলাকে গাছে বেঁধে মারধর ও চুল কেটে নেওয়া হয়। সোমবার বিকেলে ওই মহিলা স্থানীয় কালীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ হাসান নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। মূল অভিযুক্ত শাহিন এখনও পলাতক।
৪০ বছর বয়সি ওই মহিলা জানিয়েছেন, আড়াই বছর আগে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পুরসভা এলাকায় শাহিনের কাছ থেকে দোতলা বাড়ি সহ তিন শতক জমি কিনেছিলেন। তারপর থেকেই শাহিন ওই মহিলাকে কুপ্রস্তাব দিতে শুরু করে। শনিবার সন্ধ্যায় নির্যাতিতার বাড়িতে কয়েকজন আত্মীয় আসেন। সেই সময় শাহিন ও হাসান জোর করে বাড়িতে ঢুকে ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই মহিলার থেকে ৫০ হাজার টাকাও দাবি করে তারা। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় ঘুরতে আসা আত্মীয়দের মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্যাতিতা চিত্কার শুরু করলে শাহিন ও হাসান তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে, সেই ভিডিয়ো তুলে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে। নির্যাতনের জেরে ওই মহিলা অজ্ঞান হয়ে যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার আমলে বাংলাদেশে নাগরিকদের গুম করা নিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিল কমিশন। গুম সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের জন্য ওই কমিশন গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। রবিবার মহম্মদ ইউনুসের কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে কমিশন জানিয়েছে, গুমের সংখ্যা ৪ থেকে ৬ হাজার হতে পারে। এর মধ্যে ১ হাজার ২৮২ জন ফিরে এসেছেন। ৩৬ জনের মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর সংখ্যা ৯৪৮ জন।