নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুর ব্লকের খেয়াদহ দু’নম্বর পঞ্চায়েতে জলাভূমি দখল করে বেআইনি নির্মাণ হয়েছিল। তা ভেঙে দিল প্রশাসন। হাইকোর্টের নির্দেশে মঙ্গলবার সোনারপুর ব্লক প্রশাসন নরেন্দ্রপুর থানার পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে এই অভিযান চালায়। বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় দু’টি বেআইনি বাড়ি। নিয়ম বহির্ভূতভাবে জলাভূমিতে বাড়ি তৈরির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। কয়েক দিন আগে বিচারক দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসককে নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। তারপর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
Advertisement
যে জায়গায় এই নির্মাণ কাজ হয়েছে সেটি ইস্ট কলকাতা ওয়েট ল্যান্ড অথরিটির অধীনে পড়ে। সেই জমিতে ইটের দেওয়াল এবং অ্যাসবেস্টসের চাল দিয়ে একটি ঘর তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া আর একটি ঘর টিন দিয়ে বানানো হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ভিন রাজ্য থেকে আসা দু’টি পরিবার এই ঘর তৈরি করেছিল। কেন এ কাজ করা হল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জগদ্বন্ধু দাস নামে এক বাড়ির মালিক বলেন, ‘অনেকে বছর ধরেই এখানে থাকছিলাম। সকালে বলা হল এটা সরকারি জমি, তাই ঘর ভেঙে দেওয়া হবে। এবার অন্য কোথায় চলে যেতে হবে।’ তিনি একপ্রকার জমি দখল করেই ঘর বানিয়েছিলেন। পূজা সাউ নামে আর এক বাড়ির বধূ বলেন, ‘সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি প্রশাসনের লোকজন চলে এসেছে বাড়ি ভাঙতে। অনেক অনুরোধ করলেও তারা শোনেননি।’ এর আগেও এই পঞ্চায়েতে মাস চারেক আগে একটি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন অবৈধ কাজ খেয়াদহজুড়ে অনেক আছে। ভিন রাজ্য থেকে এখানে এসে মোটা টাকার বিনিময়ে বাড়ি করছেন অনেকে। কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও যুক্ত রয়েছেন এর সঙ্গে। এই পঞ্চায়েতের একটি বড় অংশ পুর্ব কলকাতা ওয়েট ল্যান্ড অথরিটির অধীনে। তবুও বিনা অনুমতিতে অবৈধ কাজ চলছে। এই প্রবণতা ভাবাচ্ছে প্রশাসনকে। -নিজস্ব চিত্র



