


সংবাদদাতা, কান্দি: সম্প্রতি রাজ্য সরকারের তরফে সেচকর তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে কান্দির হিজল এলাকার প্রায় ১০ হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হবে। চাষিদের আর সেচকর বাবদ কোনো বাড়তি টাকা দিতে হবে না। স্বাভাবিকভাবেই এলাকার চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কান্দির ওই এলাকার পাঁচটি নদীতে রয়েছে আটটি রিভার লিফটিং ওয়াটার সেচপ্রকল্প।
কান্দির হিজল পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বাবলা, কুয়ে, দ্বারকা, বেলে, এঁড়ে ও ময়ূরাক্ষী নদী। তবে, এঁড়ে নদীতে সেচ দেওয়ার সুবিধা নেই। যদিও বাকি নদীগুলির বিভিন্ন অংশে রিভার লিফটিং সেচপ্রকল্প রয়েছে, যা থেকে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হয়। কয়েক বছর ধরে কান্দির হিজল এলাকায় এই সুবিধা পাচ্ছেন চাষিরা। ফলে স্থানীয় ১০ হাজার কৃষক পরিবারে এতে উপকৃত হয়েছেন বলে দাবি। শ্রীকৃষ্ণপুর, কালী শংকরপুর, বেণীপুর, আমিত্যা, বাঘআচড়া, কাউখালি, বামনমারি ও রানিপুর গ্রামের কাছে সেচপ্রকল্পগুলি রয়েছে। জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য এতদিন চাষিরা কর দিয়ে আসছিলেন।
কান্দি ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, হিজল এলাকায় তিনটি কৃষি সমবায় সমিতি রয়েছে। এর মধ্যে নতুনগ্রাম কৃষি সমবায় সমিতিতে নথিভুক্ত চাষির সংখ্যা প্রায় ৭৫০০। আমিত্যা কৃষি সমবায় সমিতিতে রয়েছেন প্রায় ২৫০০ চাষি। শ্রীকৃষ্ণপুর-সুভাষনগর কৃষি সমবায় সমিতিতে প্রায় ১৫০০ নথিভুক্ত চাষি রয়েছেন। অধিকাংশ জমি সেচপ্রকল্পের আওতায় রয়েছে। তাঁদের বছরে অন্তত দুই থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত সেচকর দিতে হত।
শ্রীকৃষ্ণপুর গ্রামের চাষি আদিত্য রাজবংশী বলেন, জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য বছরে ২০০০ টাকা সেচকর দিতে হয়। রিভার লিফটিং সুপার ভাইজার আমাদের কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করেন। সুভাষনগর গ্রামের চাষি সামসুদ্দিন রহমান বলেন, গ্রামের অধিকাংশ চাষি সেচের সুবিধা পাচ্ছেন। আমাকে বছরে প্রায় ৬০০০ টাকা সেচকর দিতে হয়। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর সেচকর তুলে দেওয়ার ঘোষণায় খুশি চাষিরা। নতুনগ্রাম কৃষি সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আসাদুল শেখ বলেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে এলাকার প্রায় ১০ হাজার চাষি পরিবার উপকৃত হবে। চাষিরা সমবায়ে এসে এসম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইছেন। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে কান্দি ব্লক এলাকার প্রায় ৫০ হাজার পরিবার উপকৃত হবে। এর জন্য চাষিদের তরফে রাজ্য সরকারকে অভিনন্দন জানাই। ফাইল চিত্র