নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার এই পুজো কার্যত হয়ে উঠেছিল বঙ্গজীবন ও বাঙালি সত্তার অংশ। ১০০ বছর পার করেও সেই পুজোর ইতিহাস অমলিন। এই পুজোর সভাপতি ছিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আরও অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গাপুজোর সঙ্গে। এহেন ঐতিহ্যবাহী পুজো নিয়েই জট পেকেছিল। যে বিতর্কের জল গড়ায় হাইকোর্টে। শেষ পর্যন্ত সেই জট কাটল।
বাগবাজার পুজো কমিটি এবং ক্লাব পরিচালন কমিটির জন্য ১৪ সদস্যের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হত। তা নিয়েই দ্বন্দ্ব চলছিল। এরপর কমিটি নিয়ে ভোটাভুটি হয়। সাধারণ সম্পাদক এবং ৪ জন সদস্য নির্বাচিত হয়। আদালত ঠিক করে দিয়েছিল দু’জন পর্যবেক্ষক। তাঁদের নজরদারিতেই ভোট হয়। ৭৭জনের মধ্যে ওই ভোটাভুটিতে অংশ নিয়েছিলেন ৬৬জন। দু’জনেই সমান সংখ্যক ভোট পান। আদালতের রায়ে ১১ সদস্যের কমিটি তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু এর মধ্যেই নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয় এক পক্ষ। নিম্ন আদালত নির্দেশ দেয়, ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাস্টিং ভোটের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করতে হবে। নিম্ন আদালতের সেই রায়কেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানান ক্লাব সদস্য রবিশঙ্কর সেনগুপ্ত ও অন্যান্যরা। তাঁদের দাবি ছিল, নিম্ন আদালতের নির্দেশ
অনুযায়ী যেভাবে কাস্টিং ভোট করা হয়েছে, সেই প্রক্রিয়া
সঠিক নয়। সেই প্রক্রিয়া খারিজ করুক হাইকোর্ট। শুনানির পর রায়দান স্থগিত ছিল। মঙ্গলবার বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চ রায় ঘোষণা করে নিম্ন আদালতের কাস্টিং ভোট সংক্রান্ত নির্দেশই বহাল রেখেছে। রায়ে বিচারপতি উল্লেখ করেছেন, পুজো কমিটির গঠন প্রক্রিয়া সঠিক। ভোট দান প্রসঙ্গে ৩৭ নম্বর রুল উত্থাপন করে নিম্ন আদালত যে নির্দেশ জারি করেছিল, তা যথার্থ।