পুরভোটের দিন ঘোষণা স্থগিত হাইকোর্টে, সিঙ্গল বেঞ্চে আসন পুনর্বিন্যাস মামলার নিষ্পত্তি পর্যন্ত অপেক্ষা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরভোটের তারিখ স্থির করা নিয়ে জটিলতা চলছিলই। আর এবার সরাসরি পুরসভার ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণায় স্থগিতাদেশ জারি করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, সিঙ্গল বেঞ্চে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কলকাতায় পুরভোটের নির্ঘণ্ট জারি করা যাবে না। 

Advertisement

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ছিল ১৪৪টি। সেটাই বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আসন পুনর্বিন্যাসের পর পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা হয় ২০৯। পুনর্বিন্যাস আইন মেনে হয়নি—এমনই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কসবার বাসিন্দা, সিপিএম নেত্রী দীপু দাস। প্রথমে বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর সিঙ্গল বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। কিন্তু অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে রাজি হয়নি বেঞ্চ। বদলে দু’পক্ষের কাছে হলফনামা চেয়েছিল। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর নির্দেশ ছিল, অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারকে চার সপ্তাহের মধ্যে বক্তব্য হলফনামা আকারে জমা দিতে হবে। তার পরের দু’সপ্তাহের মধ্যে ওই বক্তব্যের পালটা জবাবও হলফনামা আকারে দিতে হবে মামলাকারীকে। 
কিন্তু সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মামলাকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, ছ’সপ্তাহ অপেক্ষা করলে তত দিনে পুরভোট হয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে এই মামলার আর কোনো প্রাসঙ্গিকতা থাকবে না। এই আবেদন গ্রহণ করে শুনানি শুরু করে বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অর্জুন রায় মুখোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, ওয়ার্ডগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত সামঞ্জস্য রাখা হয়নি। জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রশাসনিক সামঞ্জস্যের বিষয়গুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এমনকি, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামলাকারী। তাঁর আরও দাবি ছিল, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেই এই কাজ করা হয়েছে। মামলাকারীর হয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়ালে দাবি করেন, ‘পুরসভা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ করার ক্ষমতাই নেই পুর কমিশনারের। অথচ তিনি সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।’ পুরসভার পক্ষে পালটা রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র দাবি করেন, ‘প্রথমে বর্ধিত ওয়ার্ডের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই সময় আপত্তি ও পরামর্শ জানানোর সুযোগ ছিল। তখন কেউ আপত্তি জানাননি।’ দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর শুনানি শেষে রায় দান স্থগিত রেখেছিল আদালত। এরপর এদিন ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনি নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাবে না। 
পুরসভা সূত্রে খবর, প্রথমে ১৪৪টি ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে বাড়িয়ে ২০০টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী কলকাতা পুরসভায় এসে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যার অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাই ঠিক হয়েছিল, বিভিন্ন ওয়ার্ডের মধ্যে এই অসামঞ্জস্য দূর করা হবে। কিন্তু বাস্তবের মাটিতে তা করা যায়নি। জানা যাচ্ছে, ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ৭০ শতাংশে এই নিয়ম মানা সম্ভব হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে মোটামুটি গড় জনসংখ্যা ২২ হাজার ধরা হয়েছিল। ৭০ শতাংশের মধ্যে ১৭ থেকে ২৯ হাজারের মধ্যে সেই হিসাব ধরে রাখা গিয়েছে। কিন্তু ৩০ শতাংশ ওয়ার্ডে সেটা মানা সম্ভব হয়নি। তাই ভোটার সংখ্যা এবং বিন্যাস নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধীরা।