Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

মানালির হিড়িম্বা মন্দির

দেবী নন। এখানে পুজো করা হয় এক রাক্ষসীকে। হিমাচল প্রদেশের মানালিতে রয়েছে এমনই এক মন্দির। হিড়িম্বা মন্দির। স্থানীয়রা যাকে ধুঙ্গাড়ি মন্দির বলেও ডাকেন।

মানালির হিড়িম্বা মন্দির
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

দেবী নন। এখানে পুজো করা হয় এক রাক্ষসীকে। হিমাচল প্রদেশের মানালিতে রয়েছে এমনই এক মন্দির। হিড়িম্বা মন্দির। স্থানীয়রা যাকে ধুঙ্গাড়ি মন্দির বলেও ডাকেন। কয়েকশো বছরের পুরনো এই মন্দিরে রহস্য, ইতিহাস আর পুরাণ মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছে। হিড়িম্বা। নামটা বড্ড চেনা। সেই সূত্রেই একটু মহাভারতে ফেরা যাক। বারণাবতে জতুগৃহ কাণ্ডের পর পঞ্চপাণ্ডব এসে পৌঁছন এক গভীর জঙ্গলে। এই জঙ্গলের রাজা তখন হিড়িম্বার দাদা হিড়িম্ব। দাদার আদেশে সুন্দরী রমণীর বেশে পঞ্চপাণ্ডবকে বধ করতে যান হিড়িম্বা। কিন্তু ভীমকে দেখে প্রেমে পড়ে যান তিনি। ভীমকে বিয়ে করার ইচ্ছে প্রকাশ করেন। তা জানতে পেরে নিজের বোনকেই হত্যা করতে উদ্যত হয় হিড়িম্ব। ভীমের সঙ্গে শুরু হয় যুদ্ধ। পরে হিড়িম্বকে বধ করেন ভীম। কিন্তু হিড়িম্বা রাক্ষসীর প্রেম মেনে নিতে পারেননি তিনি। শেষে জননী কুন্তীর আদেশে হিড়িম্বাকে বিয়ে করেন ভীম। শর্ত ছিল একটাই, তাঁদের সন্তান হওয়ার পর হিড়িম্বাকে ত্যাগ করবেন ভীম। সন্তান ঘটোৎকচের জন্মের পরেই হিড়িম্বাকে ছেড়ে চলে যান ভীম। কথিত আছে, এখানেই পুত্র সন্তানকে বড় করে তোলেন হি়ড়িম্বা এবং গভীর তপস্যায় মগ্ন হন। তপস্যাবলে রাক্ষসী থেকে একসময় দেবীতে উন্নীত হয়েছিলেন তিনি। পরে এখানেই তাঁর মন্দির তৈরি হয়। ইতিহাস বলছে, ১৫৫৩ সালে মানালির হিড়িম্বা মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন মহারাজা বাহাদুর সিং। হিমালয়ের পাদদেশে পাইন ঘেরা এলাকায় প্যাগোডা স্টাইলে নির্মিত হয়েছে মন্দিরটি। উচ্চতা ২৩-২৪ মিটার। ভিতরে রয়েছে বিরাট একটি কালো রঙের পাথর। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওই কালো পাথরের নীচেই ধ্যানে বসতেন মা হিড়িম্বা। মন্দিরজুড়ে অসাধারণ কাঠের কাজ। সাজানো রয়েছে বিভিন্ন পশুর শিং। রয়েছে এক বিশাল মাপের পায়ের ছাপও। সেই পায়ের ছাপ নাকি স্বয়ং হিড়িম্বার! প্রতি বছর নবরাত্রির সময় মানালি মেতে ওঠে তাঁর আরাধনায়। হিড়িম্বা মন্দির থেকে একটু দূরেই রয়েছে আরও এক মন্দির। হিড়িম্বা ও ভীমের সন্তান ঘটোৎকচের। স্থানীয়দের বিশ্বাস, আজও মা হিড়িম্বা আপদে-বিপদে রক্ষা করে চলেছেন গোটা এলাকাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ