


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম পুলিসের ঘুম কেড়েছে ‘হেরোইন রানি’। পুলিসের সন্দেহ, তার হাত ধরেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে নিষিদ্ধ হেরোইন পাচারের কারবার চলছে। শহরের জনবহুল মোড়ে বেজে উঠছে সাইকেলের ঘন্টি। ভিড়ের মধ্যে এজেন্টরা পরিচিত ক্রেতাদের হাতে দেশলাইয়ের বাক্স ধরিয়ে দিচ্ছে। পুলিসের নজর এড়িয়ে নিষিদ্ধ হেরোইনের পুরিয়া এভাবেই হাতবদল হয়ে যাচ্ছে। নেপথ্যচারিনী ও তাঁর শাগরেদর ধরতে বেছানো হয়েছে জাল।
শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের কাঁটা’ গল্পে ব্যোমকেশ বক্সি সাইকেলের ঘন্টির শব্দে খুনের রহস্যভেদ করেছিলেন। সেই ঘন্টির শব্দ ব্যবহার করেই ঝাড়গ্রাম শহরে এখন হেরোইন পুরিয়ার হাতবদল হচ্ছে। হেরোইন বিক্রেতা সাইকেল নিয়ে শহরের ব্যস্ত কোনও মোড়ে দাঁড়াচ্ছেন। সাইকেলের বেল টিপছেন। ক্রেতারা বেলের শব্দে শহরের রাস্তায় হেরোইন বিক্রেতাকে চিনে নিচ্ছেন। দেশলাইয়ের প্যাকেটে থাকা হেরোইন পুরিয়া নিয়ে আবার ভিড়ে মিশে যাচ্ছেন। পাঁচ প্যাকেট হেরোইন পুরিয়ার দাম পাঁচ হাজার টাকা। গত শনিবার রাতে জামবনী ব্লকের মোহনপুর জঙ্গলে এক সাইকেল আরোহীর কাছে হেরোইনের পুরিয়া ও নিষিদ্ধ সিরাপের বোতল উদ্ধার করা হয়। ঝাড়গ্রাম থানার শালুকগেড়িয়ার বাসিন্দা টুটুন রানা নামের পাচারকারী যুবককে গ্ৰেপ্তার করা হয়। দু'দিনের পুলিসি হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদ উঠে আসে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পার্শ্ববর্তী পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে ঝাড়গ্রামে হেরোইন পাচার করা হচ্ছে। পাচার করা হেরোইন ঝাড়গ্রাম ও জামবনীর জঙ্গল লাগোয়া গ্ৰামে প্রথমে আনা হচ্ছে। স্থানীয় এজেন্টরা হেরোইনের পুরিয়া লোধাশুলি ও অরণ্য শহরের স্টেশন চত্বর এলাকায় নিয়ে আসছে। লোকাল এজেন্ট পুলিসের নজর এড়িয়ে সাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করছে। জেলা পুলিস সূত্রের খবর, আন্তঃরাজ্য একটি বড় চক্র এই হেরোইন কারবারে সঙ্গে জড়িত। হেরোইন তৈরির মূল উপাদান রাজস্থান থেকে পশ্চিম মেদিনীপুরে আনা হচ্ছে। গোপন ডেরায় ফিনিশিং করে তা পার্শ্ববর্তী জেলায় পাচার করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তঃরাজ্য এই পাচার কারবার ডিলার, সাব ডিলার ও স্থানীয় এজেন্টদের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক মহিলা পাচার চক্রের রিং লিডার বলে জানা গিয়েছে। ঝাড়গ্রাম জেলা মাদক পাচারের অন্যতম করিডর হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় থেকে আসা হলুদ বোঝাই লরির মধ্যে লুকিয়ে মাদকদ্রব্য বাংলায় আনা হচ্ছে। জেলা পুলিসের একের পর এক অভিযানে গাঁজা, নিষিদ্ধ সিরাপ ধরা পড়ছে। নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্যের একটা অংশ ঝাড়গ্রাম জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। নিষিদ্ধ হেরোইন বাজায়াপ্তের ঘটনায় জেলা পুলিস নড়েচড়ে বসেছে। জামবনী থানার এক পুলিস অফিসার বলেন, দিন কয়েক আগে হেরোইন পাচারকারী এক এজেন্টকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে বেশকিছু তথ্য আমরা পেয়েছি। হেরোইন পাচারে আন্তঃরাজ্য বড় একটা চক্র জড়িত আছে বলে আমরা মনে করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাবে না। ঝাড়গ্রাম শহরের এক বাসিন্দা বলেন, বিনপুর ও ঝাড়গ্রামে হেরোইন সহ নিষিদ্ধ মাদক দ্রব্য পাচারে তরুণদের ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষয়টি এখন আর অজানা নয়।