Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভৈরব সেতুতে ওভারলোডেড গাড়ি রুখতে বসছে হাইট বার

বয়স হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়েছে। কখনও হেলে পড়েছে রেলিং, কখনও গর্ত হয়ে সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে

ভৈরব সেতুতে ওভারলোডেড গাড়ি রুখতে বসছে হাইট বার
  • ২৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: বয়স হাফ সেঞ্চুরি পেরিয়েছে। কখনও হেলে পড়েছে রেলিং, কখনও গর্ত হয়ে সেতুর একাংশ ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি দেখে এবছরের শুরুতেই লোড টেস্টিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল প্রশাসন। তার রিপোর্টের ভিত্তিতে ডোমকল মহকুমার ইসলামপুরে ভৈরব সেতুতে হাইট বার বসাতে চলেছে পূর্তদপ্তর। ওই সেতু দিয়ে ওভারলোডেড গাড়ি চলাচল বন্ধে নভেম্বরের শুরু থেকেই দু’দিকে ৩.১৫মিটার উচ্চতার দু’টি হাইট বার বসানো হবে। তবে এতে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে বলে ট্রাকমালিকরা আশঙ্কা করছেন।

Advertisement

বহরমপুর-জলঙ্গি রাজ্য সড়কে ভৈরব নদের উপর এই সেতু প্রায় ৫৫বছরের পুরনো। এটি ডোমকল মহকুমার সঙ্গে বহরমপুরের সংযোগ রক্ষা করে। এই সেতু দিয়ে রানিনগর, সাগরপাড়া, জলঙ্গি, ডোমকল, ইসলামপুর সহ মহকুমার নানা এলাকার মানুষ বহরমপুরে আসা-যাওয়া করেন। নদীয়া জেলার একাংশের বাসিন্দারাও বহরমপুরে যাতায়াতের জন্য এই সেতুর উপর নির্ভরশীল। সেতুটি ডোমকল মহকুমায় পণ্য পরিবহণে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এটি দিয়ে বহু দূরপাল্লার বাস চলাচল করে।
বাস ও ট্রাকমালিকদের দাবি, এত নিচু হাইট ব্যারিয়ার দিলে আন্ডারলোডেড পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার স্লিপার বাসও যাতায়াত করতে পারবে না। বিকল্প রুটে অনেকটা ঘুরপথে যেতে হবে। এতে খরচ অনেকটাই বেড়ে যাবে।
মুর্শিদাবাদ জেলা ট্রাক অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কুন্তল বাজপেয়ী বলেন, এই উচ্চতার হাইট বার লাগানো হলে পাটের গাড়িগুলিও যাতায়াত করতে পারবে না। ঘুরপথে যেতে অনেকটাই খরচ বাড়বে। আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানাব।
ফেডারেশন অব বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সেক্রেটারি তপনকুমার অধিকারী বলেন, এতদিন সেতু সারানো, নতুন সেতু তৈরির ব্যবস্থা করা হয়নি কেন? সরকারি দপ্তরের নিজেদের দোষ ঢাকতে এমন হয়রানির কী মানে হয়? আমাদের না জানিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের যাত্রী পরিবহণে ক্ষতি হলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পদক্ষেপ করব।
পূর্তদপ্তরের বহরমপুর ডিভিশন-২ এর এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুজয় দাস বলেন, এই মুহূর্তে ওভারলোডিং বন্ধ করে সেতুটিকে বাঁচানো প্রয়োজন। ৫৫বছর আগে সর্বোচ্চ ৩০টন ওজনের গাড়ি চলাচলের কথা মাথায় রেখে সেতুটি তৈরি করা হয়েছিল। এখন সেটায় ১০০টন পর্যন্ত লোড উঠছে। তাই লোড টেস্টিংয়ের রিপোর্টের ভিত্তিতে সেতুর দু’মাথায় ৩.১৫মিটার উঁচু হাইট ব্যারিয়ার লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন সেতু তৈরি না হওয়া পর্যন্ত এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। ভৈরব সেতুর পাশাপাশি নলিনী বাগচী সেতুতেও এধরনের হাইট ব্যারিয়ার লাগানো হবে।  ফাইল চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ