Bartaman Logo
২৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চন্দননগরে হেভিওয়েট মন্ত্রীর হার, তিন ফ্যাক্টরে আলোর শহরে আঁধারে তৃণমূল

চন্দননগরে পরাজিত হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। আলোর শহরে ইন্দ্রনীলের পরাজয়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

চন্দননগরে হেভিওয়েট মন্ত্রীর হার, তিন ফ্যাক্টরে আলোর শহরে আঁধারে তৃণমূল
  • ৬ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চন্দননগরে পরাজিত হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। আলোর শহরে ইন্দ্রনীলের পরাজয়কে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। জয়ী হয়েছেন বিজেপির রাজ্যনেতা দীপাঞ্জন গুহ। তাঁর জয়ের ব্যবধান সাড়ে ১৩ হাজার। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, গত ১৫ বছরে চন্দননগরে কোনো ভোটেই তৃণমূল ৪১ শতাংশের নীচে ভোট পায়নি। এবার ইন্দ্রনীল সেন থেমেছেন সেই সংখ্যা থেকে অনেকটা দূরে। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৩৮.৯৭ শতাংশ। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া ছিল। পাশাপাশি রয়েছে এসআইআর এবং ইন্দ্রনীলের পুরসভাকেন্দ্রিক কর্মপদ্ধতি, যা বিপদ ডেকে এনেছে। আর তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতেছে বামেরা। নতুন করে বামেদের প্রায় ৬ শতাংশ ভোট বিজেপির ঘরে গিয়েছে।

Advertisement

চন্দননগর বিধানসভার ফলাফল বিশ্লেষণ করে আপাতত এই তথ্য উঠে এসেছে। তৃণমূলের অন্দরমহলের দাবি, দল ভেবেছিল, বামেদের রক্তক্ষরণ বোধহয় বন্ধ হয়েছে। বিশেষ করে এবার চন্দননগরে একজন স্বচ্ছ ভাবমূর্তির শিক্ষককে প্রার্থী করেছিল সিপিএম। ঘাসফুল শিবিরের অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার বোধহয় বামেদের ভোট কিছুটা হলেও বাড়বে। কিন্তু তা শেষপর্যন্ত হয়নি। উলটে বামের কিছুটা ভোট রামে গিয়েছে। চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, এসআইআর পর্বে আমাদের প্রায় ৫ শতাংশ ভোট কমেছে। প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চোরাস্রোতও কাজ করেছে। তবে ফলাফল আরও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। 
রাজনৈতিক মহল বলছে, গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের জনপ্রিয়তায় ছিল ভাটার টান। তবে বিধানসভা ভোটে ফের তৃণমূলের পালে জোরালো হাওয়া বইবে বলে আশা করেছিলেন দলীয় নেতারা। কারণ দু’টি ভোটের প্রেক্ষিত আলাদা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের প্রতি মানুষের সমর্থন ক্রমশ কমেছে। লোকসভা ভোটের তুলনায় এবার প্রায় ৫ শতাংশ ভোট কম পেয়েছেন ইন্দ্রনীল। আবার বিধানসভার হিসাব ধরলে ২০২১ সালের তুলনায় এবার ঘাসফুলে প্রায় ৯ শতাংশ ভোট কম পড়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, এর মধ্যে পাঁচ শতাংশ হেরফের হয়েছে এসআইআরের কারণে। আর ফ্যাক্টর হয়েছে বাম। ২০২১ সালে বামেরা ১৮.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১২.৮৫ শতাংশ। এবার তারা পেয়েছে ১২.১৮ শতাংশ ভোট। 
এর সঙ্গে আছে ইন্দ্রনীল-ফ্যাক্টরও। চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর—এই দু’টি পুরসভা নিয়ে চন্দননগর বিধানসভা। দু’টি ক্ষেত্রেই বিধায়ক তথা মন্ত্রীকে একটি বলয় ঘিরে রাখত। সিংহভাগ কাউন্সিলারের সেখানে প্রবেশ ‘নিষিদ্ধ’ ছিল। তাতে ক্ষোভের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনাও এবারের নির্বাচনে কাজ করেছে বলে দলেরই একাংশের মত। ওই অংশের দাবি, চন্দননগরে শেষ পুরসভা ভোটের পরে পদের বিলিবণ্টনে ‘জেদ’ ধরে বসেছিলেন ইন্দ্রনীল। তাঁর জেদ পূরণ হলেও অনেক সিদ্ধান্ত চন্দননগরের শিক্ষিত ডানপন্থীদেরও পছন্দ হয়নি। তা ভোটে নিশ্চিতভাবেই প্রভাব ফেলেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ