Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

মার্চ-এপ্রিলের টানা বৃষ্টিতে ডুয়ার্সে ফার্স্ট ফ্লাশের চায়ের ব্যাপক উৎপাদন

ফেব্রুয়ারিতে শীত চলে যাওয়ার সময় সাধারণত হালকা বৃষ্টি হয়। এবার ফেব্রুয়ারিতে সেই বৃষ্টি না হওয়ায় আবহাওয়ার শুষ্কতার জেরে এবার ডুয়ার্সে চায়ের উৎপাদন ব্যাপক মার খেয়েছিল।

মার্চ-এপ্রিলের টানা বৃষ্টিতে ডুয়ার্সে ফার্স্ট ফ্লাশের চায়ের ব্যাপক উৎপাদন
  • ৩ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ফেব্রুয়ারিতে শীত চলে যাওয়ার সময় সাধারণত হালকা বৃষ্টি হয়। এবার ফেব্রুয়ারিতে সেই বৃষ্টি না হওয়ায় আবহাওয়ার শুষ্কতার জেরে এবার ডুয়ার্সে চায়ের উৎপাদন ব্যাপক মার খেয়েছিল। চা মালিকদের সেই ক্ষতিই যেন পুষিয়ে দিল মার্চ-এপ্রিলের টানা বৃষ্টি। এতে ফার্স্ট ফ্লাশের চায়ের ব্যাপক উৎপাদন হয়েছে। চওড়া হাসি চা মালিকদের মুখে। টানা বৃষ্টির জন্য চা মালিকদের কৃত্রিম সেচের খরচ থেকেও রেহাই মিলছে। শুধু তাই নয়। মার্চ-এপ্রিলের টানা বৃষ্টিতে ইতিমধ্যেই সেকেন্ড ফ্লাশও চলে এসেছে। এজন্য সেকেন্ড ফ্লাশেও চায়ের উৎপাদন ব্যাপক বাড়বে। 

Advertisement

তবে এই লক্ষ্মীলাভেও অন্য আশঙ্কার কথাও ব্যক্ত করছেন চা মালিকর। চা মালিকদের কথায়, টানা বৃষ্টি চললেও রোদের দেখা নেই। তাপমাত্রার পারদ নেমে যাওয়ায় মে মাসেও ঠান্ডার আমেজ। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন কিন্তু মোটেও ভালো লক্ষণ নয়। কারণ, চায়ের উৎপাদন বাড়াতে যেমন প্রচুর বৃষ্টির দরকার তেমনি গরম ও রোদেরও দরকার। তা না হলে চা গাছের বৃদ্ধি ঘটবে না। 
উত্তরের চা বিশেষজ্ঞ তথা ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ডুয়ার্স শাখার সচিব রামঅবতার শর্মা বলেন, মার্চ-এপ্রিলে টানা বৃষ্টি হওয়ায় আমরা অবশ্যই খুশি। মার্চ-এপ্রিলের টানা বৃষ্টির কারণে ফার্স্ট ফ্লাশের চায়ের উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে আমাদের অন্য আশঙ্কাও ভাবাচ্ছে। চায়ের ভালো উৎপাদনে যেমন বৃষ্টির দরকার তেমনি রোদ ও গরমও আবশ্যক। কারণ, বৃষ্টির সঙ্গে রোদ গরম না থাকলে চা গাছের শ্রীবৃদ্ধি ব্যাহত হবে। অথচ নাগাড়ে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা নেমে গিয়ে ঠান্ডার আমেজ চলছে। এটা কিন্তু ভালো লক্ষণ নয় আমাদের কাছে। 
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি দুই জেলা মিলিয়ে প্রায় ২০০টি চা বাগান রয়েছে। মার্চ-এপ্রিল থেকে ডুয়ার্স জুড়েই বৃষ্টি চলছে। চা মালিক সংগঠনগুলির সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর এই সময় ৩৫ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল। এবছর এই সময়ে ইতিমধ্যেই এই উৎপাদন ৪২ লক্ষ কেজি ছাড়িয়ে গিয়েছে। টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার অধীন মাঝেরডাবরি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার চিন্ময় ধর বলেন, শুধু তাই নয়। টানা বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যেই গাছে সেকেন্ড ফ্লাশও চলে এসেছে। এই প্রবণতা থেকে আমরা নিশ্চিত সেকেন্ড ফ্লাশের চায়েরও ভালো উৎপাদন হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ