Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিম্নচাপে বেশি বৃষ্টি পশ্চিমের জেলায়

পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে রবিবার নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে গেলেও এই দফাতেও ওড়িশায় তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন।

নিম্নচাপে বেশি বৃষ্টি পশ্চিমের জেলায়
  • ৩০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল লাগোয়া উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে রবিবার নিম্নচাপ তৈরি হয়েছে। এই নিম্নচাপটি দক্ষিণবঙ্গের উপর দিয়ে গেলেও এই দফাতেও ওড়িশায় তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হবে বলে আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন। ঝাড়খণ্ডেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে সার্বিকভাবে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়লেও নিম্নচাপের বেশি প্রভাব পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পড়বে বলে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস রবিবার জানিয়েছেন। দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জেলার কোনও কোনও জায়গায় সোমবার সকাল পর্যন্ত ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে দক্ষিণবঙ্গের আরও কয়েকটি জেলায়। তবে কলকাতায় আপাতত ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। সোমবার সকালের পরেও দক্ষিণবঙ্গে বেশি মাত্রায় বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। আপাতত আগামী ৫ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকছে। উত্তরবঙ্গেও ভারী বৃষ্টি চলবে ওইসময় পর্যন্ত। রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের বুধবার পর্যন্ত সমুদ্রে না-যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কারণ জোরালো হাওয়ার সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিমি পর্যন্ত হওয়ার কারণে সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কা আছে। 

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম অভিমুখে ধীরগতিতে অগ্রসর হবে। উত্তর ওড়িশা, দক্ষিণবঙ্গ হয়ে এটি ঝাড়খণ্ডের দিকে যাবে। ঝাড়খণ্ডে বেশি বৃষ্টি হলে তার প্রভাবে এরাজ্যে, বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে পড়ে। কারণ অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন নদীর জলস্তর বৃদ্ধির পাশাপাশি ডিভিসির মাইথন-পাঞ্চেত থেকে তখন বেশি পরিমাণে জল ছাড়তে হয়। এতে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে যে নিম্নচাপটির প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয় সেটির গতিপথ প্রায় একইরকম ছিল বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন। তবে ওই নিম্নচাপটির শক্তি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। সেটি দক্ষিণবঙ্গের   উপর দিয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপ হিসেবে অগ্রসর হয়েছিল। এখন বর্ষার স্রোত সক্রিয় থাকায় নিম্নচাপটি অতটা শক্তি বৃদ্ধি করবে না বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এটি সাধারণ নিম্নচাপ হিসেবেই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ও লাগোয়া ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টি বাড়লে বিপদের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর, সোমবার সকাল পর্যন্ত ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ‘ফ্লাশ ফ্লাডের’ সতর্কতা দিয়ে রেখেছে। 

সম্পর্কিত সংবাদ