Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নতুন ভোটারেরও শুনানি, বাংলা আবার দীর্ঘ লাইনে! পালাবদল হয়েছে, কাটেনি এসআইআর আতঙ্ক

নতুন ভোটারদের জন্য শুনানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসআইআর আতঙ্কের মধ্যে ভোটার তালিকায় নাম তোলার নিয়ম বদলেছে। বিস্তারিত পড়ুন।

নতুন ভোটারেরও শুনানি, বাংলা আবার দীর্ঘ লাইনে! পালাবদল হয়েছে, কাটেনি এসআইআর আতঙ্ক
  • ১০ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: বিস্তর বিতর্ক, আর মামলা-মোকদ্দমার জট কাটিয়ে রাজ্যে এসআইআর হয়েছে। সংশোধিত ভোটার তালিকা ধরেই হয়েছে বিধানসভা ভোট। গঠিত হয়েছে নবনির্বাচিত সরকার। তবে এসআইআর শেষ হলেও আতঙ্ক কাটল না। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ভোটার লিস্টে নাম তোলার জন্য বহু আবেদন জমা হয়েছিল কমিশনের দপ্তরে। ভোটের কারণে এতদিন তা আটকে ছিল। তাই ভোট মিটতেই ফের তালিকায় নতুন নাম তোলার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। শুধু বদলে গিয়েছে কাঠামো। কারণ, আগে প্রয়োজনীয় নথি সহ আবেদন করলেই নতুন ভোটারের নাম তালিকায় নাম উঠে যেত। আর তা হবে না। তালিকায় নাম তোলার জন্য জমা দেওয়া ৬ নম্বর ফর্ম নিয়ে বিন্দুমাত্র ‘সংশয়’ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির সম্মুখীন হতে হবে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল এসআইআর পর্বে। শুধু তাই নয়, এখন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর বাবা-মা কিংবা কোনো আত্মীয়ের যোগসূত্র দাখিল করতে হবে বাধ্যতামূলকভাবে। সেই তথ্য কমিশনের ‘যথাযথ’ মনে না হলেই শুনানি। অর্থাৎ, আবার সেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি, লম্বা যাচাই পর্ব এবং ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ ফিরতে চলেছে বলেই আশঙ্কা সব মহলের। 

Advertisement

কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন, ১৮ বছর পূর্ণ করার পর যাঁরা প্রথমবার নাম তোলার জন্য আবেদন করেছেন বা করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে দেওয়া যাবতীয় নথি যথাযথ কি না, রিটার্নিং অফিসার তা বিবেচনা করবেন। সামান্য সংশয় দেখা দিলেই ডাকা হবে শুনানিতে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীকে এসআইআরের মতোই একটি ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে। ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে থাকছে সেই ফর্ম। সেখানেও ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যোগসূত্র জানতে চাওয়া হচ্ছে। আগে নতুন করে নাম তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মতারিখের প্রমাণ রয়েছে, এমন একটি নথি দিলেই চলত। তার সঙ্গে বাবা-মায়ের (অভিভাবকের) ভোটার কার্ডের তথ্য। এবার আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। বদলেছে নিয়মও। 
এসআইআরে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। অন্তত ২৭ লক্ষ নাগরিক তাঁদের ভোটাধিকার ফেরত পাওয়ার দাবিতে অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়েছেন। অনেকে ট্রাইবুনালে না গিয়ে নতুন করে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছেন। কমিশন সূত্রে খবর, এই আবেদনকারীদের প্রত্যেককেই ফের শুনানির সম্মুখীন হতে হবে। ইতিমধ্যে জেলাভিত্তিক সেই কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। কমিশনের তরফে পাঠানো শুনানির নোটিসে আবেদনকারীদের জন্মের শংসাপত্র, মাধ্যমিক পাশের সার্টিফিকেট, প্যান কার্ড, আধার কার্ড, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর বাবা-মা বা আত্মীয়ের সঙ্গে যোগসূত্রের প্রমাণ এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি সঙ্গে আনতে বলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আত্মীয়ের সমস্ত বৈধ নথিও সঙ্গে রাখতে বলেছে কমিশন। অর্থাৎ ভোটার তালিকায় নতুন করে নাম তোলার ক্ষেত্রে এসআইআর পর্বের মতোই নিজেকে যোগ্য বলে প্রমাণ করতে হবে। 
নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ৬ নম্বর ফর্মের সঙ্গে যে পৃথক ফর্ম পূরণ করতে হচ্ছে, তা অনেকটা ইনিউমারেশন ফর্মের মতোই। ওই ফর্মেই স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে, ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর কোন আত্মীয়ের নাম রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ