Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁশকুড়ায় হাসপাতালের মধ্যেই ধর্ষণের শিকার মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী, তুমুল বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ম্যানেজার

পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মধ্যেই ধর্ষণের শিকার হলেন এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী (ওয়ার্ড গার্ল)। এই ঘটনা ফের হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

পাঁশকুড়ায় হাসপাতালের মধ্যেই ধর্ষণের শিকার মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী, তুমুল বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার ম্যানেজার
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পাঁশকুড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের মধ্যেই ধর্ষণের শিকার হলেন এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী (ওয়ার্ড গার্ল)। এই ঘটনা ফের হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। 

Advertisement

ঘটনার সূত্রপাত রবিবার। সোমবার বেলায় তা প্রকাশ্যে আসে। উত্তাল হয়ে ওঠে হাসপাতাল ক্যাম্পাস। দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায়। ধর্ষণে অভিযুক্ত হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত (ফেসিলিটি) ম্যানেজার জাহির আব্বাস খানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত ও নিগৃহীতা যুবতী একই এজেন্সির কর্মী। ঘটনাটি সামনে আসতেই আরও বেশ কয়েকজন মহিলা স্বাস্থ্যকর্মী মুখ খুলতে শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, এমন ঘটনা প্রথম নয়। তাঁরাও বিভিন্ন সময় যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। প্রায় প্রতিটি ঘটনাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কানে তোলা হয়েছে। কিন্তু, কর্তৃপক্ষ সবকিছু শুনেও না শোনার ভান করে গিয়েছে। আসলে, অভিযুক্ত স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ। হাসপাতাল সুপার কৌশিক ধল বলেন, ‘থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ওয়ার্ড গার্লের মতো আরও কয়েকজন একই ঘটনার শিকার বলে দাবি করছেন। সবকিছু তদন্ত করে দেখবে পুলিস।’ 
রবিবার হাসপাতালের আউটডোর থাকে না। লোকজন কম থাকে। কর্মীদের  সংখ্যাও অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। সেই সুযোগে ওই ওয়ার্ড গার্লকে হাসপাতালের ভেতর একটি রুমের ভিতর ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সিসি ক্যামেরায় গোটা ঘটনাটি ধরা পড়ে। সোমবার বেলা থেকেই তা ছড়িয়ে পড়ে আগুনের মতো। ক্ষোভে ফেটে পড়েন এজেন্সি কর্মীরা। জোট বেঁধে প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেন। তাতে শামিল হন ওই নিগৃহীতাও। দফায় দফায় বিক্ষোভ চলে। সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। তারপরই থানায় এফআইআর দায়ের করেন সুপার। পরিস্থিতি সামাল দিতে  পাঁশকুড়া থানা থেকে বাহিনীকে আসতে হয় হাসপাতালে। 
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ফেসিলিটি ম্যানেজারের বাড়ি হাসপাতালের কাছেই। এজেন্সি নিযুক্ত কর্মীদের সে টার্গেট করত। কাজ থেকে ছাঁটাই করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শিকার বানাত। অভিযুক্ত জাহির প্রভাবশালী নেতাদের ঘনিষ্ঠ। সেই কারণে তাঁরা মুখ খুলতে ভয় পেতেন। রবিবারের ঘটনার পর সকলে একযোগে প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নেন। এদিন এজেন্সি নিযুক্ত সিকিউরিটি কর্মী রাজু খাঁড়া বলেন, ‘ধৃত ফেসিলিটি ম্যানেজার সকাল ৯টায় হাসপাতালে ঢুকত। রাত ১১টায় হাসপাতাল থেকে বের হত। হাসপাতালের যাবতীয় কুকর্মের সঙ্গে জড়িত। আমরা ওর ফাঁসির দাবি করছি।’
নিগৃহীতা ওই স্বাস্থ্যকর্মী জানিয়েছেন, রবিবার তখন ডিউটি শেষ হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে লোকজন কম ছিল। বেরনোর সময় তাঁকে জোরপূর্বক একটি রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। এর আগেও তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করা হয়েছে। একই ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে তাঁর অভিযোগ।  জাহিরের মৃত্যুদণ্ডের মতো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন নির্যাতিতা। 
এদিকে, এজেন্সি নিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সার্ভিস ডক্টরস ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাস বলেন, ‘পাঁশকুড়া হাসপাতালের ভিতর কর্তব্যরত অবস্থায় যেভাবে স্বাস্থ্যকর্মী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযুক্তও একজন এজেন্সি নিযুক্ত কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত মহিলা কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করে গিয়েছে। এমনকী, আগেও ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। প্রশাসনিক চূড়ান্ত ব্যর্থতার জেরে এমন ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তি চাইছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ