নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: স্থায়ী, অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক কর্মী মিলিয়ে রাজ্য প্রশাসনের অন্যতম বড়ো দপ্তর স্বাস্থ্য। কর্মীসংখ্যা দু’লক্ষাধিক। এবার তাঁদের প্রত্যেককে ‘ফেস রেকগনিশন’ বা মুখের ছবির মাধ্যমে হাজিরা দিতে হবে। এই বিশাল ওয়ার্কফোর্সের একটি বড়ো অংশ তথা কলকাতা ও জেলার ৩৭টি বড়ো হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে মুখের ছবির মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশনামা জারি করল স্বাস্থ্যভবন। ‘অতি জরুরি’ এই সরকারি নির্দেশের আওতায় এল রাজ্যের অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ। আইডি, বি সি রায়, স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন, পাভলভ হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন সেবাসদন, আইডি, বাঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, এম আর বাঙ্গুর, চিত্তরঞ্জন সেবাসদন, রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব অবথালমোলজির মতো বড়ো সরকারি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটেরও নাম রয়েছে। তালিকায় আছে হুগলি, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, বালুরঘাটের মতো কিছু জেলা হাসপাতালের নামও।
হাজিরা খাতায় কারচুপি ঠেকাতে আঙুল ছাপ দিয়ে বায়োমেট্রিক হাজিরার প্রচলন হয়েছিল স্বাস্থ্যসচিব সঞ্জয় মিত্রের আমলে। সৃষ্টিকর্তা তিনিই। কিন্তু বায়োমেট্রিক মেশিন চালুর পরই ফাঁকিবাজরা মেশিন ফাঁকি দিতে চিউইংগাম লাগানো, নষ্ট করা ইত্যাদি ছলাকলা চালাতেই থাকে। পাশাপাশি চলতেই থাকে হাজিরা খাতা এবং তাতে বেলাগাম কারচুপি।
এমসিআইয়ের জায়গায় যখন শিক্ষক চিকিৎসকদের শীর্ষ নীতি নিয়ামক সংস্থার দায়িত্ব ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের হাতে এল, তারা সংস্কার শুরু করল। তার অন্যতম হল, বায়োমেট্রিক মেশিনে শুধু আঙুল ছাপ নয়, ‘আধার এনাবলড বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম’ এবং ফেস রেকগনিশন চালু করতে হবে। শিক্ষক চিকিৎসক বা ফ্যাকাল্টি ও কিছু প্রশাসনিক কর্তার ক্ষেত্রে চালুও হয় এই পন্থা। কিন্তু অশিক্ষক চিকিৎসক এবং অচিকিৎসক কর্মীদের ক্ষেত্রে হাজিরা খাতা অথবা আঙুল ছাপ মেশিনে হাজিরা এবং কিছু ক্ষেত্রে দু’টিই একসঙ্গে চালু ছিল এবং রয়েছে।
এবার রাজ্যজুড়ে সমস্ত স্তরের স্বাস্থ্যকর্মীর ক্ষেত্রে সকাল ১০টা- বিকেল ৫টা বা সকাল ৯টা-বিকেল ৪টার নিয়মমাফিক হাজিরা চলবে মুখের ছবি ম্যাচিং করে। বিতর্কিত হাজিরা খাতাগুলিতে নয়। ইতিমধ্যে এই মেশিন এসে গিয়েছে বহু সরকারি হাসপাতালে। আঙুল ও মুখের ছবির তোলার কাজও চলছে জোরকদমে।
কিন্তু হাজিরা দুর্নীতি ঠেকানো সম্ভব? বর্ধমান মেডিকেল কলেজের এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্র্যাকটিসিং চিকিৎসকদের একাংশ প্ল্যান করেই নিয়েছেন! খোসবাগান বা বর্ধমানের বিখ্যাত ‘হসপিটাল জোন’ বর্ধমান মেডিকেল কলেজের পাশেই। তাঁরা ঠিক করেছেন, গাড়ি থাকবে হাসপাতালেই। মুখের ছবিতে হাজিরা দিয়েই খোসবাগানে চেম্বার বা ওটি করে ফের সময়মতো মেডিকেল কলেজে ফিরে এলেই হল! যন্ত্রকে ফাঁকি দেওয়া আবার ব্যাপার নাকি!