সংবাদদাতা, ঘাটাল: পেটে ব্যথার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ডান হাত কাটা যাওয়ার ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। দাসপুর থানার হরিরাজপুরের গৃহবধূ পুতুল দোলুইয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে দাসপুর থানায় মঙ্গলবার লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ সেই অভিযোগের কপি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে পাঠিয়েছে। তারপরই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বুধবার জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের নির্দেশে একটি বিশেষ দল দাসপুরের নাড়াজোল গ্রামীণ হাসপাতালে যায়। তদন্তকারী দলে ছিলেন ঘাটাল মহকুমা সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দুর্গাপদ রাউত, দাসপুর-১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শ্রাবস্তী বিশ্বাস প্রমুখ। তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার সমস্ত নথি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মেডিকেল অফিসার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। রোগীকে কী কী ওষুধ দেওয়া হয়েছিল এবং কতদিন তিনি ভর্তি ছিলেন, সেইসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
জেলার এক স্বাস্থ্যকর্তা জানিয়েছেন, ঘাটাল মহকুমা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছ থেকে সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। চিকিৎসায় গাফিলতি প্রমাণিত হলে দোষীদের শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
উল্লেখ্য, দাসপুর থানার হরিরাজপুর গ্রামের গৃহবধূ পুতুল গত ৬ জুলাই রাতে পেটে ব্যথা ও বমির সমস্যা নিয়ে নাড়াজোল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর স্বামী কিংকর দোলুইয়ের অভিযোগ, কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে এক নার্স পুতুলকে একটি ইনজেকশন দেওয়ার পরই তাঁর ডান হাতে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে প্রথমে মেদিনীপুর এবং পরে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় গত ১৫ জুলাই এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁর ডান হাত কনুইয়ের পর থেকে কেটে বাদ দিতে হয়। এই ঘটনার পরই দাসপুর থানায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কিংকরবাবু।
অত্যন্ত দরিদ্র ওই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। একটি হাত হারিয়ে পুতুলদেবী অথৈ জলে পড়েছেন। স্ত্রীর দেখাশোনা করার যনৎ স্বামীও নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না। ফলে পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সামান্য পেটের গণ্ডগোলের চিকিৎসায় গিয়ে কীভাবে ওই গৃহবধূ আজীবনের মতো পঙ্গু হয়ে গেলেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা এখন প্রশাসনের তদন্ত রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন।