


সংবাদদাতা, কান্দি: জমি থেকে তুলে আনা করলায় মেশান হচ্ছে সবুজ রং! এরপর তা বাজারে বিক্রির জন্য পাঠান হচ্ছে। শনিবার এই ছবি ধরা পড়েছে ভরতপুর ১ ব্লকের গড্ডা গ্রামে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দপ্তর। রং মেশানো বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাসও দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে চাষিদের দাবি এই সামান্য রংয়ে কোনো ক্ষতি হয় না। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্লকের গড্ডা পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপকভাবে করলা চাষ হয়। হাজারেরও বেশি বিঘা জমিতে চাষিরা করলা চাষ করেছেন এবার। সেই করলা এখন বাজারজাত করা হচ্ছে। চাষিরা জানান, প্রতিদিন এলাকা থেকে পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকে করে করলা বিভিন্ন বাজারে পাঠানো হয়। চাষি পানু শেখ বলেন, উৎপাদিত করলা চলে যায় বহরমপুর, আসানসোল, দেওঘর থেকে শেওড়াফুলি ও কলকাতার বিভিন্ন বাজারে। তবে করলার দর পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, জমি থেকে করলা তুলে আনার পরেই তাতে মেশান হচ্ছে সবুজ রং! দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়রা করলায় রং মেশানোর ব্যাপারটি নিয়ে দাবি করছিলেন। তবে এদিন তা বাস্তবেই দেখা গেল। গ্রামের এক জায়গায় প্রথমে বস্তা ভর্তি করলা জড়ো করা হয়। এরপর ওই করলা বস্তা থেকে বের করে একটি জল ভর্তি ড্রামে ঢালা হচ্ছে। ওই ড্রামে আগেই সবুজ রং মেশান ছিল। পরে ড্রাম থেকে করলা উঠিয়ে ফের শুকানো হচ্ছে। এরপর তা ফঁড়েদের বিক্রি করা হচ্ছে। যার ফলে করলাগুলি উজ্জ্বল সবুজ দেখতে লাগছে।
বৈদ্যনাথপুর গ্রামের চাষি মানোয়ার মল্লিক বলেন, করলায় রং না মেশালে সবুজ ফুটে ওঠে না। সেই কারণেই রং মেশানো হচ্ছে। তবে এতে মানুষের শরীরে কোনো ক্ষতি হবে না। এবিষয়ে ভরতপুর ১ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শীর্ষ চট্টোপাধ্যায় বলেন, করলায় রং মেশানোর ব্যাপারটি স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকর। এর থেকে ভয়ানক রোগও হতে পারে। সোমবার ওই এলাকায় সচেতনতামূলক শিবির করে চাষিদের করলায় রং দেওয়া থেকে বিরত থাকার কথা বলা হবে।