বানেরঘাটা ন্যাশনাল পার্ক। বেঙ্গালুরু শহর থেকে আরও ২২ কিলোমিটার দক্ষিণে। চিড়িয়াখানা, স্নেক পার্ক, বাটারফ্লাই পার্ক তো রয়েছেই—উপরি পাওনা লায়ন ও টাইগার সাফারি। আর তার জন্য দিনভর দেশি-বিদেশি পর্যটকের ভিড় লেগেই থাকে। কিন্তু পর্যটকদের সামনে ছাড়ার আগে একদফা বিশেষ প্রশিক্ষণ চলে এই বাঘ-সিংহ অথবা চিতাবাঘদের। ঠিক স্কুলের মতো। শেখানো হয় সাফারি চলাকালীন ‘কী করা যাবে আর কী করা যাবে না।’ কিন্তু বন্যপ্রাণকে নিয়মের মধ্যে বাঁধা কি এত সহজ! মোটেও না। সেই কঠিন কাজটাই নিত্যদিন করে চলেছেন সাবিত্রাম্মা। খাকি পোশাক, উপরে ন্যাশনাল পার্কের নাম লেখা নীল রঙের হাফ জ্যাকেট। পদ বলছে, তিনি পশুদের কেয়ারটেকার। কিন্তু কর্তৃপক্ষ মনে করে, তিনি একজন শিক্ষক। বন্যপ্রাণীদের শিক্ষক। রোজ প্রত্যেকের খাঁচার কাছে গিয়ে নিজস্ব ভঙ্গিতে তাদের নাম ধরে ডাকা, দেখভাল করা, খাঁচার ভিতর ঢুকে খাওয়ানো, খুনসুটি, সবই চলে। তাঁর এই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে বানেরঘাটার হিংস্র পশুরাও। অবলীলায় বাঘ-সিংহের মুখে হাত ঢুকিয়ে দেন তিনি। অবস্থা এমনই যে, তিনি একদিন ছুটিও নিতে পারেন না। তাহলেই নাকি বিগড়ে যায় বুচ্চি-চিন্নুরা। এসব নামও তাঁরই দেওয়া। সাবিত্রাম্মার কথায়, ‘সাফারিতে যেসব পশুকে ছাড়া হয়, তাদের অধিকাংশকেই অনাথ অবস্থায় এখানে এনেছিল বনদপ্তর। হয় তাদের মা-বাবা মারা গিয়েছে অথবা তারা পরিত্যক্ত। একেবারে বাচ্চাদের মতো বড় করতে হয়েছে তাদের। সেই স্নেহ-আবেগের মূল্য ওরা বোঝে। তাই আমার কাছে একেবারে বাধ্য শিশুর মতো থাকে। এতদিন ওদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি, নখের আঁচড় পর্যন্ত লাগতে দেয়নি আমার গায়ে।’ এই পদে কাজ করতেন সাবিত্রাম্মার স্বামী। ২০০২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর সেই চাকরি পান সাবিত্রাম্মা। সেই থেকে পশুদের সঙ্গে সখ্য। যা অটুট ২৩ বছর পরেও। শুধু আক্ষেপ একটাই, ‘প্রশিক্ষণ শেষে ওদের সাফারির জন্য ছেড়ে দিতে হয়। তখন একটু কষ্ট হয়। যদিও প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পরের ব্যাচ চলে আসে।’ ঠিক স্কুলের মতোই। সাবিত্রাম্মার সন্তানরাও যে ফুল মার্কস পেয়ে পরের ক্লাসে উত্তীর্ণ।



