Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁধের বাঁকে দলিল-দস্তাবেজ, ৭২ রকম নথি নিয়ে শুনানিতে

কাঁধে ঝোলানো বাঁক। তাতে রয়েছে দলিলসহ ৭২ রকমের নথি।

কাঁধের বাঁকে দলিল-দস্তাবেজ, ৭২ রকম নথি নিয়ে শুনানিতে
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা মালদহ:  কাঁধে ঝোলানো বাঁক। তাতে রয়েছে দলিলসহ ৭২ রকমের নথি। মঙ্গলবার কালিয়াচক-২ ব্লকে নির্বাচন কমিশনের এসআইআরের শুনানিতে এমন অবস্থাতেই হাজির হলেন ওই ব্লকের হামিদপুর চরের মাথাভাঙা গ্রামের আব্দুল মালেক। শুনানিতে হাজির অন্যদের প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র কটাক্ষ করেন ২৭ বছর বয়সী ওই যুবক। নিজের বিধানসভা এলাকার বাসিন্দা মালেকের এই প্রতিবাদ যথার্থ বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য,শুনানিতে গিয়ে কমিশন নির্দিষ্ট নথি জমা করলেই হত। পুরোটাই আসলে নজর কাড়ার কৌশল।

Advertisement

এদিন  মালেক কাঁধে বাঁক নিয়ে শুনানি কেন্দ্রে পৌঁছলে তাঁকে ঘিরে ভিড় জমে যায়। তাঁর বক্তব্য,নির্বাচন কমিশন আসলে একটি দলের কথায় চলছে। আমাদের মতো অনেক মানুষ শুনানির নামে হেনস্তার শিকার হচ্ছি।

মালেক কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। বিএলওর মাধ্যমে দু’বার পৃথক নথি জমা দেওয়ার পরেও শুনানিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই পরিযায়ী শ্রমিক বলেন,৭২ রকম দলিল-দস্তাবেজ এনে বোঝাতে চাইছি আমি রোহিঙ্গা কিংবা বাংলাদেশি নই। তাঁর বাবা-দাদু থেকে সকলের বিভিন্ন নথিও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন এদিন। এত দলিল-দস্তাবেজ তো ফাইলে বেঁধে মাথায় বহন করে নিয়ে আনা সম্ভব নয়, তাই কাঁধে বাঁক ঝুলিয়ে দই বিক্রির ঢঙে নথি নিয়ে এসেছেন। বলেন,আমার পাসপোর্ট, পিতৃপুরুষের নথি সবই রয়েছে। দেখা যাক নির্বাচন কমিশন কীসে সন্তুষ্ট হয়!

শুধু দলিল-দস্তাবেজই নয়। এদিন নিজের করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার প্রমাণ, মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেট সহ অনেক কিছুই নিজের পোশাকে আলপিন দিয়ে গেঁথে নিয়ে এসেছিলেন ওই যুবক। তাঁর বক্তব্য,  নিজেকে বৈধ ভোটার প্রমাণ করতে গেলে আর কী কী করতে হবে!

মালেকের এই অভিনব প্রতিবাদকে আরও অনেক সাধারণ মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠস্বর বলে মনে করেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। তিনি মোথাবাড়িরই বিধায়ক। মন্ত্রী বলেন, এসআইআরের শুনানিতে যেভাবে মানুষকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে, তাতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ওই যুবক আসলে অনেক ভুক্তভোগী মানুষের প্রতিনিধি।

অন্যদিকে,মালদহ দক্ষিণ জেলা বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাসের বক্তব্য,অনেকেই শুনানিতে যাচ্ছেন। প্রয়োজনীয় কাগজ দেখাচ্ছেন। আমরা বৈধ ভোটারদের স্বার্থেই অবৈধ ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পক্ষে। ওই যুবক হয়তো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এমন কাণ্ড করেছেন। তবে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ওপরে পূর্ণ আস্থা রাখা উচিৎ। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ