নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: সকাল থেকে নাগাড়ে বমি। সঙ্গে মোচড় দিয়ে পেটে ব্যথা আর আর ধুম জ্বর। হবিবপুরের বসিন্দা মজিদ মণ্ডলকে নিয়ে পরিবারের লোকজন এসেছিলেন স্থানীয় যাদব দত্ত গ্রামীণ হাসপাতালে। কিন্তু সরকারি হাসপাতালে নিয়ে এসে লাভ কী হল? সরকারি নির্দেশিকার গুঁতোয় হাসপাতালে নেই অ্যান্টিবায়োটিক ইনফিউশন। যা একটি ইনজেকশন সলিউশন, স্যালাইনের মতোই চ্যানেল করে পৌঁছে দিতে হয় রক্তে। অগত্যা, পরিবারকেই তা জোগাড় করে নিয়ে আসতে হবে বলে জানিয়ে দেয় হাসপাতাল। সেই সলিউশন জোগাড় করতে পরিবারের ভোগান্তি লিখতে গেলে ভরে যাবে দিস্তা দিস্তা কাগজ।
Advertisement
এক মাসের মধ্যে সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ পৃথক দু’টি বেসরকারি সংস্থার স্যালাইন, ওষুধ, ইনজেকশন সহ একাধিক চিকিৎসা সামগ্রী ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নির্দেশিকা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো স্টক বাতিল করে ‘স্থানীয়ভাবে ম্যানেজ’ করে নিতে বলা হয়েছে। আচমকা নির্দেশিকা আর বিপুল চাহিদার জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলার ছোট বড় হাসপাতালগুলিকে। জেলা সদর, মহকুমা শহর অথবা স্টেট জেনারেল হাসপাতালগুলিতে সমস্যা কিছুটা কম হলেও প্রত্যন্ত এলাকায় গ্রামীণ হাসপাতালগুলির দুর্দশা মারাত্মক। এরকমই এক পরিস্থিতিতে পেটে ব্যথা, বমি, ধুম জ্বর সহ একাধিক শারীরিক সমস্যা নিয়ে যাদব দত্ত গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন মজিদ মণ্ডল। ‘মেট্রোনিডাজল ইনজেকশন আইপি’ তাঁকে স্যালাইনের মাধ্যমে দিতে হবে বলে লিখে দেন চিকিৎসক। কিন্তু হাসপাতালে স্যালাইন নেই! নরমাল স্যালাইন, রিঙ্গার ল্যাকটেট, ডি-ফাইভের মতো অহরহ ব্যবহার না হওয়ায় এই বিশেষ সলিউশন স্থানীয়ভাবেও জোগাড় করে রাখা হয়নি। অগত্যা ওই রোগীর পরিবারের লোকজনকেই তা বাইরে থেকে কিনে আনতে বলা হয়। কিন্তু হবিবপুর রানাঘাট শহর থেকে বেশ দূরে। গোটা চত্বরে একাধিক ওষুধের দোকান ঘুরেও সেই সলিউশন জোগাড় করে উঠতে পারেনি পরিবার। এমনকী রানাঘাট শহরের একাধিক দোকানে গিয়েও খালি হাতেই ফিরে আসতে হয়েছে। অবশেষে জাতীয় সড়ক লাগোয়া একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফার্মেসিতে গিয়ে মেলে ওই বিশেষ সলিউশন। চূড়ান্ত ভোগান্তির পর অবশেষে তারা সরকারি হাসপাতালে এসে নিজেদের কেনা সেই সলিউশন তুলে দেন চিকিৎসকদের হাতে। বিষয়টি নিয়ে মজিদ মন্ডল বলেন, হাসপাতালে আমাকে ভর্তি করার পর বাড়ির লোককে লিখে দেওয়া হল এই স্যালাইন নাকি কিনে আনতে হবে বাইরে থেকে। বাড়ির লোকজন বহু জায়গায় ঘুরেও তা পাচ্ছিলেন না। অবশেষে কোনও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে জোগাড় করে এনেছেন। আমার স্ত্রীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এটা তো অব্যবস্থা। সমস্যা শুধু যাদব দত্ত গ্রামীণ হাসপাতালেই নয়, একাধিক গ্রামীণ হাসপাতালেই রয়েছে। যতক্ষণ না সরকারের তরফে স্টক দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ এই সমস্যা চলবে বলেও জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিষয়টি নিয়ে নদীয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাস বলেন, সমস্ত ছোটবড় হাসপাতালেই কমবেশি প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ইনজেকশন পাঠানো হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই সমস্যা সাময়িক।
বিষয়টি নিয়ে নদীয়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জ্যোতিষচন্দ্র দাস বলেন, সমস্ত ছোটবড় হাসপাতালেই কমবেশি প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও ইনজেকশন পাঠানো হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এই সমস্যা সাময়িক।



