নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অল্প সময়ে চড়া সুদের নাম করে কোটি কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। কোম্পানি খুলে কমবেশি ১৩ হাজার মানুষের কাছ কয়েক কোটি টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে যায় হাবড়ার এজি কলোনির গৌতম মণ্ডল ও তাঁর দুই ছেলে গৌরব ও চন্দন মণ্ডল। প্রতারিতরা থানায় অভিযোগ দায়ের করলে বৃহস্পতিবার রাতে ২০ দিনের মাথায় অভিযুক্ত চন্দন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে হাবড়া থানার পুলিস। শুক্রবার ধৃতকে বারাসত আদালতে তোলা হলে পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তাকে জেরা করে প্রতারক বাবা ও ভাইয়ের খোঁজ করছে হাবড়া থানার পুলিস।
Advertisement
জানা গিয়েছে, হাবড়ার এজি কলোনির বাসিন্দা গৌতম মণ্ডল ও তার দুই ছেলে গৌরব ও চন্দন ‘ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্প’ নামে একটি সংস্থা খোলে ২০১৬ সালে। ব্যাঙ্ক এবং পোস্ট অফিসের তুলনায় বেশি সুদের ‘টোপ’ দেন তাঁরা। গ্রামের ছাপোষা মানুষ সেই টোপে না বুঝেই পা দেওয়ায় প্রতারিত হন বলে অভিযোগ। রীতিমতো বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা জমা দেওয়ার কথা বলতেন তাঁরা। বাড়িতে গিয়ে টাকা সংগ্রহ করত ছেলেরা। ৩৬৫ দিন টাকা জমানো হলে পরের মাসে সুদ সহ সেই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি গ্রাহকদের। প্রথম কয়েক বছর সুদ সহ টাকা ফেরতও পেয়েছিলেন অনেকে। কাউকে বলা হয় দৈনিক সঞ্চয় করলে দেড় বছরের মাথায় দ্বিগুণ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। দোকানদার থেকে ফেরিওয়ালা, দিনমজুর, টোটোচালকরা দৈনিক সঞ্চয় স্কিমে টাকা দিয়ে ফাঁপরে পড়েন। হাবড়া, অশোকনগরেও রমরমিয়ে ব্যবসা ফেঁদেছিল এই সংস্থা। তাদের প্রায় ১৩ হাজার গ্রাহক ছিল বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে। হঠাৎ ২৮ নভেম্বর জানাজানি হয়, গৌতমরা সপরিবার বাড়িতে তালা দিয়ে উধাও। শুধু তাই নয়, সকলের ফোন বন্ধ। পরের দিন থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত চন্দনকে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করে হাবড়া থানা। চন্দনের গ্রেপ্তারের খবর জানতে পেরে শুক্রবার প্রতারিতরা হাবড়া থানায় এসে ভিড় করেন। বারাসত আদালতে নিয়ে আসার সময় হাতে জুতো নিয়ে প্রিজন ভ্যানের কাছে গিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দেন তাঁরা। প্রতারিত সুমিত বিশ্বাস ও কাকলি ধর বলেন, মাত্র একজন গ্রেপ্তার হয়েছে। হাবড়া থানার উপর আমাদের আস্থা আছে। পুলিস বাকি দু’জনকেই গ্রেপ্তার করবে। অভিজিৎ ঘোষ বলেন, তিল তিল করে টাকা জমিয়েছিলাম।
এ প্রসঙ্গে হাবড়ার এসডিপিও প্রসেনজিৎ দাস বলেন, প্রতারিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। এদিন প্রতারিতদের একাংশ পুলিসের গাড়ি আটকে বলে, আমাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই পরিবার। অভিযুক্তকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।
এ প্রসঙ্গে হাবড়ার এসডিপিও প্রসেনজিৎ দাস বলেন, প্রতারিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে চন্দন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। এদিন প্রতারিতদের একাংশ পুলিসের গাড়ি আটকে বলে, আমাদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে এই পরিবার। অভিযুক্তকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।



