Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাজারদুয়ারিতে এক বছরে আড়াই কোটি টাকার টিকিট বিক্রি, ঘুরতে এসেছেন ১০ লক্ষ পর্যটক

গত এক বছরে মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারিতে প্রায় ১০লক্ষ পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। প্রায় আড়াই কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

হাজারদুয়ারিতে এক বছরে আড়াই কোটি টাকার টিকিট বিক্রি, ঘুরতে এসেছেন ১০ লক্ষ পর্যটক
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

অভিষেক পাল  বহরমপুর

Advertisement

গত এক বছরে মুর্শিদাবাদের হাজারদুয়ারিতে প্রায় ১০লক্ষ পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। প্রায় আড়াই কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তরফে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান জেলার পর্যটনশিল্পকে আরও চাঙ্গা করবে বলেই ব্যবসায়ীরা মনে করছেন।
রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্টের অধীনে এক ব্যক্তি এই তথ্য চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তার উত্তরে এএসআই জানিয়েছে, হাজারদুয়ারিতে ২০২৩-২৪অর্থবর্ষে ৯লক্ষ ৫৭হাজার ৫২৩জন এসেছেন। ২কোটি ৪২লক্ষ ৬৬হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। প্রতিবছরই হাজারদুয়ারিতে পর্যটকসংখ্যা বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৮লক্ষ ৩৪হাজার ৭৯৮জন পর্যটক এখানে এসেছিলেন। সেবার ২কোটি ১১লক্ষ ২৩হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। তার আগে ২০২১-২২অর্থবর্ষে ২লক্ষ ৪১হাজার ৩৭৪জন হাজারদুয়ারিতে আসেন। সেবার মাত্র ৬০লক্ষ ৩৬হাজার টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। করোনার কারণে ওই অর্থবর্ষে পর্যটকদের সংখ্যা কম ছিল। তবে তার পরের বছর থেকে পর্যটকদের সমাগম বেড়ে চলেছে।
মিউজিয়াম ও প্যালেসের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আর্কিওলজির সার্ভে অব ইন্ডিয়ার তরফে আর্থিক বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। ২০২১-’২২অর্থবর্ষে ৪১.৭৩লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। তার পরের অর্থবর্ষে ৫৬.২৭লক্ষ টাকা এবং ২০২৩-’২৪ অর্থবর্ষে ৫৬.৪২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, করোনার পর থেকে এখানে প্রতিবছর পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। আগামী দিনে আরও বাড়বে। মুর্শিদাবাদে ঘুরতে এলেই মানুষ অন্তত একবার হাজারদুয়ারিতে আসেন। তবে পর্যটনশিল্পকে আরও চাঙ্গা করতে বিনোদনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। লালবাগে বিনোদনের জন্য আরও ভালো কিছু করা উচিত। তবেই পর্যটনশিল্পের আরও উন্নতি হবে। এর ফলে জেলায় কর্মসংস্থান হবে। শ্রমিকদের আর বাইরে কাজে যেতে হবে না। স্বপনবাবু জানান, পর্যটনশিল্পকে কেন্দ্র করে দীঘা যেভাবে সেজে উঠেছে, তেমনি মুর্শিদাবাদেও ইতিহাসকে আঁকড়ে ধরে নতুন অনেক কিছু করার সম্ভাবনা আছে। প্রতিবছর এখানে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়ছে। এতে জেলার অর্থনীতির বুনিয়াদ মজবুত হচ্ছে।
মহরম উপলক্ষ্যে হাজারদুয়ারি সংগ্রহশালা ও প্রাসাদের সামনে ইমামবারা খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে পর্যটকরা ঢুকতে পারছেন। সারাবছর এই ইমামবারার দরজা পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। শুধুমাত্র মহরমের জন্য ১০দিন ইমামবারা খোলা হয়। পুরো এলাকা আলোয় সাজিয়ে তোলা হয়। তা দেখতে প্রচুর পর্যটক হাজির হচ্ছেন। এসময় লালবাগ শহরের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
মুর্শিদাবাদ স্টেটের এক আধিকারিক বলেন, মহরমকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। তা দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছেন। ভিনজেলার পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকে মানুষ এসময় লালবাগে আসেন।

সম্পর্কিত সংবাদ