Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রেলের ফরমানে স্টেশন চত্বর থেকে নিজেরাই দোকান সরালেন হকাররা

কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বরে হকাররা নিজেই দোকান সরালেন। দীর্ঘদিনের জীবিকার ঠিকানা হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে তারা কান্নাকাটি করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

রেলের ফরমানে স্টেশন চত্বর থেকে নিজেরাই দোকান সরালেন হকাররা
  • ১৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: বুলডোজারের ধাক্কায় রুটিরুজি জোগানো একচিলতে গুমটিটা শেষ হয়ে যাবে, এটা ওরা চাননি। তাই তো একবুক কান্না নিয়েই কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বরে কয়েক দশক ধরে ব্যবসা করা ছোটো, ছোটো দোকানগুলি হকাররা নিজেরাই সরিয়ে নিলেন। মঙ্গলবার সকালটা এই গরিব মানুষগুলির কাছে ছিল গভীর বেদনার ও বিচ্ছেদের। 

Advertisement

রেলের জমি খালি করার নির্ধারিত সময়সীমার শেষ দিনে ভোরের আলো ফোটার আগেই দোকান গুটিয়ে নেওয়ার কাজে নেমে পড়েন হকাররা। কারও হাতে হাতুড়ি, কারও হাতে রেঞ্জ,  কেউ আবার টিন, বাঁশ ও কাঠের খুঁটি খুলে শেষবারের মতো নিজের দোকানের অস্তিত্বটুকু সরিয়ে নিলেন। একাজ করতে করতেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে চোখের জল সামলে এক বৃদ্ধ হকার বলছিলেন, জানি না এবার বাড়িতে উনুন জ্বলবে কী করে!
চারিদিকে ভেসে আসছে টিন ভাঙার শব্দ, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে বাঁশের খুঁটি, কাঠের তক্তা ও দোকানের হরেক সামগ্রী। কিন্তু এই শব্দের মাঝেও সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে অসংখ্য মানুষের নীরব কান্না। অনেক হকারই কথা বলতে পারছিলেন না। নিজেদের দীর্ঘদিনের জীবিকার ঠিকানা হারানোর যন্ত্রণায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তাঁরা। 
বেশিরভাগ হকার বললেন, রেল কর্তৃপক্ষ ২০ দিন আগে উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছিল। কিন্তু আমরা এত বছর ধরে এখানে ব্যবসা করে আসছি, আমাদের নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ পুনর্বাসনের ব্যাপারে কিছু জানায়নি। এমনকি, কোনো আর্থিক সুবিধার কথাও জানায়নি। কিছুদিন আগে এসে প্রত্যেকের নাম ও দোকানের মাপ লিখে নিয়ে গিয়েছিল। আমাদের মতো গরিব মানুষের কথা কেউ ভাবছে না। রেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি,  আমাদের একটু সাহায্য করার জন্য।
শেফালী শীল নামে এক বিধবা মহিলা হকার চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে বলেন, প্রায় ৪২ বছর আগে এই দোকানটা আমার স্বামীর নিজের হাতে তৈরি করা। উনি আজ আর বেঁচে নেই। কিন্তু আজ ওঁর হাতে গড়া দোকান ভেঙে দিতে হল। মনে হচ্ছে যেন দ্বিতীয়বার স্বামী হারালাম। 
বলরাম দাস বৈরাগ্য নামে এক রুটি তরকার দোকানদার বলেন,  আজ বাঁচার সব আশা যেন শেষ হয়ে গেল। কীভাবে সংসার চলবে, ভাবতেই পারছি না। আমি যেন জীবিত থেকেও মৃত। সরকার থেকেও আমাদের কোনো সাহায্য করল না। 
ছোট্টু দাস নামে এক হকারের ক্ষোভ, আমাদের মতো গরিব মানুষের কথা কেউ ভাবে না। বাইরে থেকে অনেকে মনে করেন আমরা হয়তো অনেক টাকা রোজগার করি। কিন্তু আমাদের বাস্তব অবস্থা আমরাই জানি। দু’দিন দোকান বন্ধ থাকলেই বাড়ির উনুন জ্বলে না। স্ত্রী, ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ