নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আউটডোরে রোগীদের লম্বা লাইন। বয়স্ক, মহিলারা ঘেঁষাঘেষি করে লাইনে দাঁড়িয়ে। তাদের মধ্যে প্রসূতি মায়েরাও রয়েছেন। ভ্যাপসা গরম সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বসে পড়ছেন। মাথার উপর ফ্যানও নেই। কাছাকাছি পানীয় জলের বন্দোবস্ত নেই। দু’-আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কেউ অসুস্থ হয়ে গেলে পরিবারের লোকজন দাঁড়াচ্ছেন। তাঁদের কেউ এসেছেন মুর্শিদাবাদের কান্দি থেকে আবার কেউ পশ্চিম বর্ধমানের রাজবাঁধ থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। মাঝরাতেই অনেকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। না খেয়েই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। শুধু টিকিট কাটতেই কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে যাচ্ছে। তারপর চিকিৎসক দেখাতে ফের লাইন দিতে হচ্ছে। রোগীরা বলছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে এসে এই দৃশ্য দেখে গিয়েছেন। তিনি নিশ্চয়ই ব্যবস্থা করবেন।
রোগীরা চাইছেন, অন্তত আউটডোরে তাঁদের মাথার উপর ফ্যান দেওয়া হোক। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুধু দক্ষিণবঙ্গে নয়, পাশের রাজ্য থেকেও অনেকেই চিকিৎসা করাতে আসেন। ভিড়ের কথা ভেবে কাউন্টার বাড়ানো হোক। অনলাইনে টিকিট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে ঠিকই, তাতে অনেকেই সড়গড় নয়। তার ফলে তাঁদের লাইনেই দাঁড়াতে হচ্ছে। মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ থেকে চিকিৎসক দেখাতে এসেছিল ইয়াসমিন খাতুন। তিনি বলেন, রাত আড়ইটার সময় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলাম। ভোরে এসে লাইন দিই। বেলা ১০টা পেরিয়ে গেলেও ডাক্তার দেখাতে পারিনি। রাজবাঁধের বাসিন্দা অনুপম চট্টোপাধ্যায় বলেন, মেয়ে আউটডোরে এসে কয়েকবার টিকিট কাটার চেষ্টা করেছিল। টিকিট কাটতে না পারায় লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরও টিকিট কাটতে পারিনি। আর এক রোগী বলেন, আউটডোরের পরিকাঠামো উন্নত করা দরকার। বৃদ্ধ, প্রসূতিদেরও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। গরমে নাভিশ্বাস উঠছে। কয়েকটি ফ্যান দিতে সরকারের বিপুল টাকা খরচ হবে না। শুধু উদ্যোগের দরকার। লাইন ছেড়ে দূরে জল আনতে যেতে হচ্ছে। ঠান্ডা পানীয় জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা এখানে নেই। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে এসে সবকিছু ঘুরে দেখেছেন। আশা করা যায় আগামী দিনে পরিস্থিতি উন্নত হবে।
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। রোগীর পরিবারের লোকজন হাসপাতালে এসে কীভাবে থাকেন সেটাও দেখেছেন। আউটডোরের বিষয়টি নিয়েও তিনি বৈঠকে আলোচনা করেছেন। কাউন্টার বাড়ানো হলে সমস্যা অনেকটাই মিটে যাবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে এসে বলেন, বেশকিছু বিষয় নজরে এসেছে। আগামী দিনে রোগীদের উন্নত পরিষেবা দেওয়ার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পরিকাঠামো উন্নতি করা হবে। কয়েকটি মেশিন দরকার। সিটি স্ক্যান করতে রোগীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। আরও একটি মেশিন হাসপাতালে আনা হবে।