Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬

অন্তঃসত্ত্বা কেন্দ্রীয় কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের, ত্বিশা কাণ্ডের ছায়া দিল্লিতে!

শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত চলত অত্যাচার। বাড়িতে জানিয়েও লাভ হয়নি। শেষ পরিণতি মৃত্যু। পুনের ত্বিশা শর্মা হত্যার ছায়া এবার দিল্লিতে! দ্বারকার বাড়ি থেকে উদ্ধার হল অন্তঃসত্ত্বার দেহ।

অন্তঃসত্ত্বা কেন্দ্রীয় কর্মীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, খুনের অভিযোগ পরিবারের, ত্বিশা কাণ্ডের ছায়া দিল্লিতে!
  • ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: শ্বশুরবাড়িতে নিয়মিত চলত অত্যাচার। বাড়িতে জানিয়েও লাভ হয়নি। শেষ পরিণতি মৃত্যু। পুনের ত্বিশা শর্মা হত্যার ছায়া এবার দিল্লিতে! দ্বারকার বাড়ি থেকে উদ্ধার হল অন্তঃসত্ত্বার দেহ। মৃতার বাবার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা মেয়েকে নির্যাতন করত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম নাজিয়া খানম (৩০)। তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেকশন অফিসার ছিলেন। গত ২১ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। 

Advertisement

চলতি বছরের মে মাসে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ‘মিস পুনে’ ত্বিশা শর্মার দেহ। প্রাথমিকভাবে বিষয়টাকে আত্মহত্যা হিসাবেই প্রমাণ করতে চায় তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। কিন্তু ত্বিশার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হন ত্বিশার শাশুড়ি ও স্বামী। 
একইভাবে নাজিয়ার মৃত্যুতেও তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদেরই দায়ী করছে তাঁর পরিবার। এফআইআরে নাজিয়ার বাবা তওয়াব খান অভিযোগ করেছেন, নাজিয়ার স্বামী আজম আলি খান, শাশুড়ি সামিন নিশা, শ্বশুর বাবর আলি খান এবং শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যরা নিয়মিত তাঁর মেয়েকে হেনস্তা করতেন। তাঁর অভিযোগ, প্রায়ই নাজিয়াকে গালিগালাজ ও মারধর করা হত। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তওয়াব খানের দাবি, নিজের অবস্থা বাড়িতে জানিয়েও ছিলেন নাজিয়া। বিষয়টা নিয়ে নাজিয়ার স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে লাভের লাভ হয়নি। গত ২১ আগস্ট ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় নাজিয়ের দেহ। এ বিষয়ে পুলিশকে দেওয়া নাজিয়ার স্বামীর বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। তাঁর দাবি, নাজিয়া তাঁকে একটি ঘরের মধ্যে আটকে রেখে অন্য ঘরে চলে যান। বাধ্য হয়ে তিনি বাড়ির মালিককে ফোন করেন। তিনি মইয়ের সাহায্যে তাঁকে ঘর থেকে বের করেন। বাইরে এসে জানালা দিয়ে তাকিয়ে তিনি দেখতে পান, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন নাজিয়া। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে নাজিয়াকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েই নাজিয়ের পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তবে ত্বিশার মতো এক্ষেত্রেও দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে নাজিয়ার পরিবার। দাবি, তাঁদের অভিযোগে পণের জন্য নির্যাতনের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও এফআইআরে তা যুক্ত করা হয়নি। পরিবারের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের বাবা আগে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেই কারণেই তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করছে না। যদিও দ্বারকার ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ জানিয়েছেন, নাজিয়ার পরিবারের সদস্যরা সংশ্লিষ্ট এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয়ে লিখিত বয়ান দিয়েছিলেন। সেই বয়ানে তাঁরা নাজিয়ার শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সন্দেহ বা অভিযোগ করেননি বলে দাবি পুলিশের। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ