সুখেন্দু পাল, বর্ধমান; তখন সবে সকাল সাড়ে ৭টা। জিম করার জন্য একে একে আসছেন। ঠিক সেই সময় দু’জন জিমে ঢুকে জানতে চাইলেন, আচ্ছা, হামিম মণ্ডল কোথায়? পুশ-আপ দেওয়া ছেড়ে একজন এগিয়ে এল। জানতে চাইল, কেন? কী হয়েছে? আমিই হামিম। ওই দু’জন হামিমকে বাইরে আসতে বললেন। তখনও হামিম বুঝতে পারেনি, তাকে গ্রেপ্তার হতে হবে। বাইরে বেরতেই পুলিশ দেখে সে হকচকিয়ে যায়। বুঝে যায়, পালানোর পথ নেই। কাশ্মীরের পুলওয়ামা হামলার মূল অভিযুক্ত সাজ্জাদ ভাট শিবিরের হামিমকে এসটিএফ গাড়িতে তুলে নিয়ে গেল একপ্রকার নিঃশব্দে। যাঁরা জিম করছিলেন, তাঁদের কেউ সেটা টেরও পেলেন না। শুক্রবার নিউজ চ্যানেলে হামিমের ছবি দেখে জানতে পারেন, এতদিন তাঁরা জিম করছিলেন জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গির সঙ্গে।
বিষয়টি জানার পর জিমের ট্রেনারও অবাক হয়ে যান। তিনি বলেন, ওই ছেলেটি দু’মাস আগে জিমে ভরতি হয়েছিল। সেভাবে কথা বলত না। তবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে যে পছন্দ করে না, সেটা তার অল্প কথাতেই বোঝা যেত।
তবে, হামিম যে ফ্ল্যাটে থাকত, সেখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে তার চালচলন ঘিরে একটা সন্দেহ ছিল। এক প্রতিবেশী বলেন, ও মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে যেত। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলত না। এক আত্মীয়া বলেন, মোবাইল হাতছাড়া করত না হামিম। সব সময় মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকত। তা নিয়ে বাবা-মায়ের সঙ্গে কয়েকবার অশান্তিও হয়েছে। সব সময় চ্যাট করত। হাওড়াতে থাকার সময়েই বোঝা যাচ্ছিল, ও ‘বিগড়ে’ যাচ্ছে। তারপরই ওর বাবা পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে চলে আসেন বর্ধমানে। তাদের এক আত্মীয় রেনেসাঁ উপনগরীতে থাকেন। তিনিই ফ্ল্যাটটি দেখে দেন পরিবারটিকে। ফ্ল্যাটের মালিক থাকেন দিল্লিতে। মালিকের এক আত্মীয় হামিমের বাবার আধার কার্ড দেখে বাড়ি ভাড়া দেন।
হামিমের আর এক আত্মীয় বলেন, ও ভালোই টাকা খরচ করত। ও যে খেটে রোজগার করছে না, সেটা বোঝা যাচ্ছিল। সেটা বুঝতে পেরেছিল পরিবারও। কিন্তু জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে, এমনটা কল্পনাও করা যায়নি।
এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, হামিমের গতিবিধির উপর বেশ কিছু দিন ধরেই নজর রাখা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার জিম করার পর যাওয়ার কথা ছিল কলকাতাতেও। সেই কারণে বৃহস্পতিবার সকালেই তাকে পাকড়াও করা হয়। জিমে ঢোকার পরই সেখানে হাজির হয় এসটিএফ। তারপর বর্ধমান পুলিশের সাহায্যে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে দফায় দফায় জেরা। অবশেষে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। সেই খবর এদিন সকাল থেকে ছড়িয়ে পড়ে জিম সেন্টারে। তাতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বলেন, জঙ্গির সঙ্গে জিম করলাম ভাবলেই গা শিউরে উঠছে। ও যে জঙ্গি, সেটা ওর আচরণে টের পাওয়া যায়নি।