নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কোচবিহার জেলায় প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিকে। দীর্ঘদিন ধরে এই বিল বকেয়া রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে বকেয়া বিল তুলতে দপ্তর মাইকিং থেকে শুরু করে সংযোগ কাটা, সব ধরনের পদক্ষেপই করেছিল। কিন্তু তাতেও সমস্যা ছিল। বহু ক্ষেত্রেই নানা ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অনেকে বিদ্যুতের বিল বকেয়া রেখে দিতেন বছরের পর বছর। এখন রাজ্য সরকার পরিবর্তন হয়েছে। তারপরেই এই বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি।
অন্য কোনো পথ না পেয়ে সরাসরি বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়াকেই তারা হাতিয়ার করেছে। কিন্তু কবে এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া উঠে আসবে তা নিয়ে কিন্তু এখনও দ্বন্দ্ব থেকেই গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির রিজিওনাল দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কোচবিহার জেলায় মোট আট লক্ষ গ্রাহকের মধ্যে চার লক্ষ গ্রাহক বিদ্যুতের বিলই দেন না দীর্ঘদিন ধরে। এই চার লক্ষ গ্রাহককে চিহ্নিত করে তাঁদের কাছ থেকে বিদ্যুতের বিল আদায়ের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছিল। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই বিল মিটিয়ে দেওয়ায় ফের সংযোগ দিয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর। কিন্তু এ তো গেল একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয়ের বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল মেটানোর বিষয়। কিন্তু জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুতের বিল বকেয়া রাখা প্রায় চার লক্ষ গ্রাহকের থেকে তা আদায়ের জন্য অভিযান শুরু হয়েছে বলে কোচবিহারে অবস্থিত বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির রিজিওনাল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
গত সরকারের আমলে কোচবিহার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বকেয়া বিদ্যুতের বিল আদায়ের জন্য মাইকিং করতে দেখা যেত। রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তেমন কোনো মাইকিং চোখে পড়েনি। তবে বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি এবার সরাসরি ‘অ্যাকশন মোডে’ চলে এসেছে। তারা বকেয়া বিলের নথি দেখে সরাসরি গ্রাহকদের বিদ্যুতের সংযোগ হাঁটতে শুরু করেছে। আর এতে বেশ খানিকটা কাজ হচ্ছে বলেও জানা গিয়েছে। যে সমস্ত গ্রাহকের বিদ্যুতের বিল বাকি রয়েছে, তাঁদের সংযোগ কেটে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিল মেটাতে তৎপর হচ্ছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, আমাদের জেলা কার্যালয়ের বিদ্যুতের বিল বকেয়া ছিল। আমরা তা মিটিয়ে দিয়েছি। ফের সংযোগ দেওয়া হয়েছে।