নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সাইবার প্রতারণায় ৪৩ লক্ষ টাকা খোয়ালেন হলদিয়ার বৃন্দাবনচকের আরাধ্যা আপার্টমেন্টের এক যুবক। সাইবার অপরাধীরা সেই টাকা সাড়ে তিনশো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রান্সফার করেছে। ওই যুবকের টাকা কোথায় পৌঁছেছে, তার উৎস খুঁজতে গিয়ে চমকে গিয়েছেন হলদিয়া থানার অফিসাররা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ওই যুবক হলদিয়া থানায় এফআইআর করেছেন। তার ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। হলদিয়া থানার আইসি রাজর্ষি দত্ত বলেন, এফআইআর হয়েছে। সেইমতো তদন্ত শুরু হয়েছে। সাড়ে তিনশো অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে।
অনলাইন ট্রেডিংয়ে মোটা আয়ের লোভ দেখিয়ে ওই যুবককে শিকার বানিয়েছিল সাইবার অপরাধীরা। টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে তাঁকে যুক্ত করা হয়েছিল। আকর্ষণীয় প্রফিটের লোভ দেখিয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা দিয়ে ভিআইপি গ্রুপে যোগ করার অফার দেওয়া হয়েছিল। লোভে পড়ে ওই যুবক সেই প্রস্তাবে রাজি হন। তারপর শেয়ার কেনার নামে ১৭-২৯ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৩দিনে ১৪দফায় মোট ৪৩ লক্ষ ন’হাজার টাকা দিয়েছেন। একটা সময় তাঁর অ্যাকাউন্টে ১কোটি ৯লক্ষ টাকা দেখিয়েছেন। ওই টাকার ২০শতাংশ দিলে সমূহ টাকা তোলা যাবে বলে টোপ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, সাইবার প্রতারকদের ছলচাতুরি বুঝতে পারেননি শিল্পশহরের ওই যুবক। কোটি টাকার লোভে ধারাবাহিকভাবে টাকা দিয়েছেন। ২৯জুলাই শেষবার পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়ার পর বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার জালে জড়িয়েছেন। তাঁর জমানো সব সঞ্চয় শেষ। জানা গিয়েছে, ওই যুবক একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। বাড়তি আয়ের লোভে তাঁর ৪৩লক্ষ টাকা খোয়া যায়। এর আগে শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের পাতন্দা গ্রামের এক বধূ একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হয়ে ১কোটি চার লক্ষ টাকা খুইয়ে তমলুক থানার দ্বারস্থ হন। টাকা ফেরতের দাবিতে কখনও পুলিশ সুপারের অফিসে, সাইবার ক্রাইম থানায়, আবার কখনও তমলুক থানায় দৌড়ঝাঁপ করছেন। রবিবারও ওই বধূ তমলুক থানায় এসে তদন্তকারী অফিসারের কাছে অনুনয় বিনয় করছিলেন।
সাইবার প্রতারকরা শেয়ার ট্রেডিংয়ে মোটা আয়ের লোভ দেখাচ্ছে। বাড়িতে বসে টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে সহজে আকর্ষণীয় আয়ের সুযোগ রয়েছে বলে মগজধোলাই করছে। গ্রুপে যোগ করিয়ে নেওয়ার পর অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। লাভের অংশ ‘রিটার্ন’ করার নামে নানা অজুহাতে টাকা নিচ্ছে। ওই চক্রের খপ্পরে পড়ে একটা সময় বুদ্ধিসুদ্ধিও ঠিকমতো কাজ করছে না। প্রতারকদের কাছে যেন মগজটাই বন্ধক রাখা হয়ে যাচ্ছে। অ্যাকাউন্ট ফাঁকা হয়ে যাওয়ার পর থানায় গিয়ে কান্নাকাটি ছাড়া কোনও উপায় থাকছে না।
হলদিয়ার ওই যুবক বলেন, এভাবে প্রতারণার শিকার হব, ভাবতে পারিনি। আমাকে অনলাইনে শেয়ার কিনে ভালো প্রফিটের লোভ দেওয়া হয়েছিল। এজন্য টেলিগ্রাম গ্রুপে যোগ করা হয়। একটা সময় ভিআইপি গ্রুপে নেওয়া হয়েছিল। তারপর ১৪দিনে ৪৩ লক্ষ টাকা চলে গেলেও কানাকড়ি কিছুই পাইনি। শেষমেশ হলদিয়া থানার দ্বারস্থ হয়েছি।