


সংবাদদাতা, হলদিয়া: আগামী ৩ মাসের মধ্যে হলদিয়া পুরসভাকে অম্রুত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। দশ বছরের বেশি সময় ধরে হলদিয়ায় অম্রুত প্রকল্পের কাজ নিয়ে গড়িমসি চলছে বলে অভিযোগ। শহরে বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দিতে ওই প্রকল্প হাতে নেয় কেন্দ্র সরকার। ২০১৬ সালে অম্রুত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে হলদিয়া পুরসভার জন্য ৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। জল সরবরাহের নতুন পরিকাঠামো গড়তে কেন্দ্র ওই অর্থ বরাদ্দ করে হলদিয়ার জন্য। অভিযোগ, বিদায়ী সরকারের আমলে পুর দপ্তরের মিউনিসিপ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গয়ংগচ্ছ মনোভাবের কারণে সেই অর্থ এখনও খরচ হয়নি। শেষ হয়নি প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজও। সরকার বদল হতেই এবার কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে রাজ্য। হলদিয়া পুরসভার অম্রুতের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারদের কলকাতায় ডেকে পাঠিয়ে ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, এমইডির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার হলদিয়াকে দ্রুত কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যেই বকেয়া পাইপলাইন পাতা ও আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারের কাজ শেষ করতে হবে।
অভিযোগ, হলদিয়ায় অম্রুত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ না হওয়ায় প্রায় চার বছর ধরে থমকে রয়েছে অম্রুত-টু বা দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। রাজ্যের অন্য পুরসভাগুলিতে অম্রুত টু প্রকল্পের কাজ জোরকদমে চলছে, কোথাও জল সরবরাহ চালু হয়ে গিয়েছে। সেজন্য হলদিয়াকে অম্রুতের প্রথম পর্যায়ের কাজ দ্রুত গুটিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। এদিকে, হলদিয়া পুরসভায় নির্বাচিত বোর্ড না থাকায় ওই প্রকল্পে নজরদারির সমস্যা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রায় চার বছর প্রশাসক রয়েছেন পুরসভায়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পুর এলাকায় বাড়ি বাড়ি নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহের জন্য মোট ২৯টি ওয়ার্ডকে ২৪টি ওয়াটার জোনে ভাগ করা হয়েছে। এজন্য ২৪টি রিজার্ভার তৈরি করতে হচ্ছে। অম্রুত ওয়ান প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৯টি এ ধরনের রিজার্ভার তৈরি হয়েছে। আগে থেকে একটি রিজার্ভার ছিল। সব মিলিয়ে অম্রুত ওয়ান পুরোদমে চালু হলে ১০টি রিজার্ভার কাজ করবে। ১৫ থেকে ২৯ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত ১৫টি ওয়ার্ডে অম্রুত ওয়ানের কাজ শুরু হয়েছিল ১০ বছর আগে। কিন্তু ১১৬ নম্বর জাতীয় সড়কের কারণে ১৫, ১৬, ১৭ এবং ১৮ নম্বর ওই চারটি ওয়ার্ডের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ এলাকায় অম্রুতের লাইন পাতা যায়নি।
জানা গিয়েছে, অম্রুতের প্রতিটি ওভারহেড রিজার্ভারের সঙ্গে একটি করে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার তৈরি হচ্ছে। গেঁওখালি জলপ্রকল্প থেকে পাইপলাইনে আসা জল ওই আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারে প্রথমে জমা হবে। পরে সেই জল সরবরাহ করা হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দু’ হাজার থেকে আড়াই হাজার গ্রাহক জলের লাইন নিয়েছে। পুরসভার এক আধিকারিক বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে অম্রুত ওয়ানের ৭টি রিজার্ভার পুরোদমে চালু হয়ে যাবে। একসপ্তাহ ধরে জলকষ্টে থাকার পর বুধবার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে অম্রুতের সমস্যা মিটেছে। ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ক্ষুদিরাম নগর এলাকায় রিজার্ভারের কাজ চলছে। দ্রুত সমস্যা মিটবে। একইসঙ্গে ১৫ এবং ২২ নম্বর ওয়ার্ডে আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভারের কাজ চলছে। এছাড়া আরও ১২০০ গ্রাহকের লাইন সংযোগ করা হবে। তিন মাসের মধ্যে ওই কাজ শেষ করতে হবে। এদিকে, অম্রুতের নতুন লাইনের সঙ্গে পুরসভার পুরনো জলের লাইনের সংযোগ করতে গিয়ে বিপত্তি ঘটছে। এলাকায় জল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। গরমের সময় জল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, অম্রুত টু প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২৫০ কিলোমিটার পাইপলাইন পাতা হবে, তৈরি হবে ১৪টি ওভারহেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার রিজার্ভার।