


মৃত্যুঞ্জয় কর্মকার, হবিবপুর: কর্মীদের মান-অভিমান ভাঙিয়ে একজোট করতে এবার তাঁদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী অমল কিস্কু। প্রথমবার হবিবপুর বিধানসভা দখলের লক্ষ্যে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। শুরুতেই কর্মীদের মনোবল বাড়ানোয় জোর দিচ্ছে নেতৃত্ব। এবার প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে বিজেপিকেই দেখছে রাজ্যের শাসক দল। ব্লক তৃণমূলের দাবি, এই বিধানসভা এলাকায় কংগ্রেস, সিপিএমের কোনো অস্তিত্ব নেই। পাল্টা বিরোধীদের কটাক্ষ, জোর করে মানুষের মন জেতা যায় না। ভুল বুঝিয়ে, বিভ্রান্ত করে লাভ হবে না। এবারও ভোট গণনার দিন মুখে কুলুপ আঁটতে হবে তৃণমূলকে।
তৃণমূলের দাবি, দলের শক্তি হলেন গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরের কর্মীরা। প্রার্থী অমল কিস্কুর জন্য তাঁরা প্রাণপণ লড়াই করবেন। গত বিধানসভায় তৃণমূলের পরাজয়ের কারণ হিসেবে গোষ্ঠী কোন্দলের তথ্য উঠে এসেছিল। শুরুতেই সেই বিষয়টি মিটিয়ে একযাগে ঝাঁপাতে চায় তৃণমূল। কর্মীদের মধ্যে কোনো ক্ষোভ বা অসন্তোষ যাতে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর রয়েছে নেতৃত্বের। নীচুস্তরের কর্মী সহ দলের অন্য নেতৃত্বের সঙ্গে ফোনে ও সরাসরি গিয়ে আলোচনা ও সৌজন্য সাক্ষাৎ শুরু করেছেন তৃণমূল প্রার্থী। বলেন, খুব তাড়াতাড়ি বুথ ধরে ধরে কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। জেলার ১২টি আসনেই প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একথা মাথায় রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।
পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস। বিজেপির দাবি, তৃণমূল দুর্নীতির জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। মিথ্যাকে আশ্রয় করে যুবকদের মাসিক ভাতার লোভ দেখিয়ে বিধানসভা ভোটে জেতার চেষ্টা চালাচ্ছে। হবিবপুরের মানুষ তৃণমূলকে অনেক আগেই প্রত্যাখ্যান করেছে। উত্তর মালদহ সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক বীণা কীর্তনিয়ার দাবি, এবারও বিজেপি হবিবপুর থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হবে। তৃণমূল আগে তাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাক, তারপর মানুষের সমস্যার কথা ভাববে। সিপিএমের হবিবপুর এরিয়া কমিটির সদস্য প্রদ্যুৎ বর্মনের মন্তব্য, হবিবপুরবাসীর কথা একমাত্র সিপিএমই ভাবে। কেন্দ্রে বিজেপি ও রাজ্যে তৃণমূলের শাসনে সবাই বিরক্ত। ভোটবাক্সে বাসিন্দারা এর উত্তর দেবেন।
হবিবপুর ব্লক জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি সুব্রত কর্মকার বলেন, সিপিএম, বিজেপি ও তৃণমূল সুযোগ পেয়েছে হবিবপুরে। উন্নয়ন কিছুই করতে পারেনি।