নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইস্ট বেঙ্গলের নতুন কোচ হলেন আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। আইএসএলে অন্যতম সফল এই স্প্যানিশ কোচ এবার লাল-হলুদ শিবিরে তাঁর নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন। জল্পনা সত্যি করে আজ সোমবার দুপুরে ইস্টবেঙ্গল শিবির জানিয়েছে কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। ফলে লাল-হলুদে ক্যাম্পে এসে হাবাসের কোচিং করানো শুধুই সময়ের অপেক্ষা। হাবাসের হাত ধরেই সমৃদ্ধ হয়েছে ভারতীয় ফুটবল ক্লাবের একাধিক শিবির। সেই তালিকায় রয়েছে মোহন বাগানও। অভিজ্ঞতা, কৌশল, পরিচালন দক্ষতা সব কিছুতেই সাফল্যের ছাপ রেখেছেন তিনি। এর আগেও অবশ্য ইস্টবেঙ্গল ক্লাব হাবাসকে কোচ হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষমেশ সেই সময় কার্লোস কুয়াদ্রাতের হাতেই দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে তখন হাবাস লাল হলুদ শিবিরে আসেননি। তবে শুধু কোচই নয়। নতুন মরশুমের আগে একাধিক দেশি-বিদেশি নামী প্লেয়ারের সঙ্গে চুক্তি করে দল সাজানোর পথে হাঁটছে ইস্ট বেঙ্গল।
অপরদিকে লাল হলুদ শিবিরের পাশাপাশি মোহন বাগান ক্লাবও নতুন কোচ নিয়োগ করেছেন। দলের হেড কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন গ্রিসের প্যানাজিওটিস ডিম্পেরিস। কথাবার্তা আগেই সেরে রেখেছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আজ, সোমবার সরকারিভাবে সবুজ মেরুনের কোচ হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়। জুনিয়ার ফুটবলারদের তুলে আনা, তাঁদের সুযোগ দেওয়া ও সিনিয়রদের সঙ্গে তাঁদের বোঝাপড়া বাড়ানোর মাধ্যমে ভারসাম্যমূলক ফুটবল উপহার দেওয়ার কারণে গ্রীক কোচ বরাবরই প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এর আগে পাঞ্জাব এফসির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। স্প্যানিশ কোচ সের্জিও লোবেরার বিদায়ের পরই প্রথম পছন্দ হিসেবে উঠে আসে ডিম্পেরিসের নাম। ৫২ বছরের এই কোচের প্রাথমিক লক্ষ্য আসন্ন ডার্বিতে সবুজ-মেরুনের জয় নিশ্চিত করা। এর জন্য তিনি ভরসা রাখছেন তাঁর গতিশীল এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল নীতির উপরই। নিয়মশৃঙ্খলা এবং কঠোর প্রশিক্ষণই দলের জয় এনে দিতে পারে বলে বিশ্বাসী তিনি। সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্যই প্লেয়াররা ঝাঁপাবে বলে আশাবাদী তিনি। মোহন বাগানের দায়িত্ব নিয়েই ডিম্পেরিসের প্রথম টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপ। তবে তাঁর আসল পরীক্ষা আগামী ২৫ জুলাই ডুরান্ড কাপ ডার্বিতে। কোচ হিসেবে যোগদানের পরই ডিম্পেরিস জানিয়েছেন, মোহন বাগান শুধুমাত্র একটা ফুটবল ক্লাব নয়, এটা একটা ঐতিহ্যশালী প্রতিষ্ঠান। যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস এবং জয়ের সংস্কৃতি। এশিয়ার অন্যতম সেরা আবেগপ্রবণ ও অনুরাগী সদস্য-সমর্থকের দল এটি। আমার ধারণা, একটি শক্তিশালী ও প্রতিভাবান দল আমি পেয়েছি। এই দলে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতার চমৎকার ভারসাম্য রয়েছে। বিশ্বের সব বড় ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যেই আকাশচুম্বী এতটা প্রত্যাশা কাজ করে। আর সেটাই স্বাভাবিক। মোহনবাগান সমর্থকদের সেই আবেগই ক্লাবের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি বলে মনে করছি। আমাদের দায়িত্ব, কঠোর পরিশ্রম করে ভাল খেলে তাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করা।