সুজয় মণ্ডল, হাড়োয়া: খাতায়কলমে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। হাড়োয়া বিধানসভায় উপ নির্বাচনের আগে তাদের তর্জন-গর্জনও ছিল সেরকম। কিন্তু ভোটের দিন দেখা গেল, ওই গর্জনই সার! ভোট-ময়দানে দেখা নেই তাদের। প্রার্থী নিজে ‘দিশাহীন’ অবস্থায় কিছু জায়গায় ঘোরাফেরা করলেন। কিন্তু শাসক দল তৃণমূলকে কড়া চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো কোনও মরিয়া প্রয়াস বা চেষ্টা বুধবার সারাদিন সেভাবে চোখেই পড়ল না। বিরোধীদের মধ্যে লড়াই দেওয়ার প্রশ্নে বরং কিছুটা হলেও এগিয়ে রইল আইএসএফ।
Advertisement
হাড়োয়ার ভোটে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন রবিউল ইসলাম। এছাড়া, বিজেপির বিমল দাস, কংগ্রেসের হাবিব রেজা চৌধুরী এবং আইএসএফের পিয়ারুল ইসলাম ছিলেন অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। ফলে এই বিধানসভা কেন্দ্রে জোরদার চতুর্মুখী লড়াইয়ের একটা ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছিল। কিন্তু ভোটের দিন দেখা গেল, বিরোধী দলগুলি কার্যত উধাও। একমাত্র আইএসএফ প্রার্থী পিয়ারুল ইসলাম কিছু ক্ষেত্রে প্রায় সমানে সমানে টক্কর দিয়েছেন তৃণমূলকে। বিধানসভার তিনটি ব্লকেই বুথে বুথে ঘুরেছেন বাম সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী। ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি কথা বলেছেন দলীয় এজেন্টদের সঙ্গেও। এদিন বুথ দখলের অভিযোগ পেয়ে দেগঙ্গার মহব্বতপুরে গেলে আইএসএফ প্রার্থীকে তৃণমূল বাধা দেয় বলে অভিযোগ। হাড়োয়া ১৭৯ নম্বর বুথে আইএসএফের এজেন্টকে দুপুরে বুথ থেকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়। পিয়ারুল বলেন, ‘তৃণমূল সর্বত্র অশান্তি করেছে। এজেন্টদের মারধর থেকে শুরু করে বুথ থেকে তুলে দেওয়া—সব করেছে ওরা। তাই আমরা ৩৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছি।’ তবে অশান্তির কথা মানতে নারাজ তৃণমূল। তৃণমূল নেতা তথা দাদপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান আব্দুল হাই বলেন, ‘আসলে কর্মীবল বা জনসংযোগ না থাকলে যা হয়, আইএসএফের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। মানুষ ওদের সিপিএমের মতো প্রত্যাখ্যান করেছে।’



