Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কালীঘাটে উদ্ধার হওয়া গুপ্তযুগের ২০০ মুদ্রার ঠাঁই লন্ডন ও বেনারসে, ১৪৮টি গলিয়ে ফেলে ইংরেজরা

গুপ্ত সাম্রাজ্যের মুদ্রা প্রথম পাওয়া যায় কলকাতাতেই। জায়গাটির নাম কালীঘাট। ঠিক কত বছর আগে পাওয়া গিয়েছিল, সে উত্তর জানা যায় না।

কালীঘাটে উদ্ধার হওয়া গুপ্তযুগের ২০০ মুদ্রার ঠাঁই লন্ডন ও বেনারসে, ১৪৮টি গলিয়ে ফেলে ইংরেজরা
  • ১০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গুপ্ত সাম্রাজ্যের মুদ্রা প্রথম পাওয়া যায় কলকাতাতেই। জায়গাটির নাম কালীঘাট। ঠিক কত বছর আগে পাওয়া গিয়েছিল, সে উত্তর জানা যায় না। তবে কালীঘাট থেকে উদ্ধার হওয়া গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রায় শ’দুয়েক মুদ্রার একটিও আজ কলকাতায় নেই। মুদ্রাগুলির স্থান হয়েছে বেনারস। আর রয়েছে লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। মুদ্রা চলে কেন গেল কলকাতার বাইরে। এই কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে এক বাঙালি ভদ্রলোক আর এক ইংরেজ, ওয়ারেন হেস্টিংস। 

Advertisement

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সুস্মিতা বসু মজুমদার বলেন, ‘যে সময় ওই মুদ্রাগুলি পাওয়া গিয়েছিল সে সময় কেউ জানতই না গুপ্ত কারা! সে কথা পরে জানা গিয়েছে।’ তিনি জানান, নবকৃষ্ণ দে নামের এক ব্যক্তির জমি থেকে ওই মুদ্রা ভাণ্ডার মিলেছিল। অতগুলি মুদ্রা পেয়ে নবকৃষ্ণ ঠিক করলেন, কিছু রেখে বাকিটা ওয়ারেন হেস্টিংসকে দিলেই ভালো। যেমন ভাবনা, তেমন কাজ। নবকৃষ্ণ মুদ্রা নিয়ে গিয়ে উপহার দিলেন হেস্টিংসকে। এবার হেস্টিংস এগুলি নিয়ে কী করবেন? কিছু ভেবে না পেয়ে তিনি সেগুলি লন্ডনে কোর্ট অব ডিরেক্টরের হাতে দিলেন তুলে। অধ্যাপক বসু বলেন, ‘লন্ডনে মুদ্রা পাঠানোর সময় হেস্টিংস একটি নোট লিখে দিয়েছিলেন। লিখেছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় যেন পাঠানো হয় এই মুদ্রা। সর্বসাধারণও যেন তা দেখার সুযোগ পান। কেউ চাইলে ব্যক্তিগত সংগ্রহেও যাতে রাখতে পারেন।’ 
জানা গিয়েছে, সে সময় দুশোরও বেশি মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল কালীঘাট থেকে। তার মধ্যে ১৭২টি পাঠানো হয় লন্ডনে। ৩০টির মতো নবকৃষ্ণ নিজের কাছে রেখে দিয়েছিলেন। কেউ দেখা করতে এসে খুশি করলে উপহার দিতেন। সেগুলির বেশ কয়েকটি এই মুহূর্তে রয়েছে বেনারসের ভারত কলাভবনে। অধ্যাপক বসু ২০১৩ সালে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে গবেষণারত। তিনি বলেন, ‘ওয়ারেন হেস্টিংস কিন্তু এর কোনও হদিশ আর পাননি। উনি জানতেন ২৪টি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রয়েছে। বাকিগুলি গলিয়ে ফেলা হয়েছে। বন্ধু নিকলসকে বলেওছিলেন, মাত্র ২৪টা রেখে সব মুদ্রা তো গলিয়ে ফেলা হল। আমরা তো কিছু দেখাতেই পারব না।’ এই দেওয়া-নেওয়া গলিয়ে ফেলার চক্করে কলকাতার মাটি থেকে পাওয়া গুপ্তযুগের মুদ্রা কলকাতাতেই আর রইল না। হাজার হাপিত্যেশ করলেও অমূল্য সে কয়েনের দেখা এ শহরে আর মেলার কোনও সম্ভাবনা নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ