সংবাদদাতা, বালুরঘাট: সরকারি নির্দেশ অমান্য করে স্কুল শিক্ষকদের একাংশ এখনও চুটিয়ে টিউশন পড়াচ্ছেন। সেন্টার বা বাড়িতে ডাকার পরিবর্তে বর্তমানে অনলাইনে পড়াচ্ছেন। প্রশাসন সূত্রের খবর, বহু শিক্ষকের নাম ইতিমধ্যে জেলা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের দপ্তরে জমা পড়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে চলেছে পর্ষদও। এর মধ্যে টিউশন পড়ানো স্কুল শিক্ষকদের সমর্থনে আন্দোলনে নামল পড়ুয়ারা। ছাত্রদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকরাও। মঙ্গলবার বালুরঘাট শহর থেকে মিছিল করে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ডিআই অফিসের কাছে পৌঁছায় পড়ুয়ারা। এরপর ডিআইকে ঘেরাও করে রাখে তারা। স্কুল শিক্ষকদের টিউশন পড়ানোর অনুমতি দিতে হবে, এই দাবিতে চলে স্লোগান। ডিআই অফিসের কর্তাদের ‘চাপ’ দেন অভিভাবকরাও।
এই ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বালুরঘাটে। খবর পেয়ে বালুরঘাট থানার পুলিশ সহ কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে ডিআই অফিসের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সরকারি নির্দেশ মানতেই হবে। পড়ুয়াদের কথাও শুনেছেন ডিআই সুজয়কৃষ্ণ মহন্ত। পড়ুয়াদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পড়ুয়াদের দাবি, তারা প্রত্যেকে এবার মাধ্যমিক দেবে। হাতে আর মাত্র কয়েক মাস। ছয় মাস স্কুল শিক্ষকদের কাছে টিউশন পড়েছে। সরকারি নির্দেশিকায় সমস্যায় পড়েছে ছাত্ররা। বাকি কয়েকমাস টিউশন বদল করতে হবে। এতে পড়াশোনায় ব্যাঘাত হবে বলে দাবি বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের। অনীশচন্দ্র বর্মন নামে এক পড়ুয়া বলে,এবার মাধ্যমিক দেব। স্কুল শিক্ষকের পাশাপাশি গৃহশিক্ষকের কাছেও টিউশন পড়ি। আমরা ইতিমধ্যে স্কুল শিক্ষকদের কাছে টিউশন পড়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। এখন টিউশন পড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে আমরা সমস্যায় পড়েছি। আরেক পড়ুয়া অন্বেষা গুহর দাবি, মাধ্যমিক পর্যন্ত আমরা স্কুল শিক্ষকদের কাছেই টিউশন পড়তে চাই।
এই আন্দোলনের পিছনে স্কুলশিক্ষকদের মদত রয়েছে বলে দাবি অনেকের। স্কুল শিক্ষকদের টিউশন পড়ানো বন্ধের দাবিতে সরব হয়েছেন গৃহশিক্ষকরা। বালুরঘাটের গৃহশিক্ষক কৃষ্ণ রায় বলেন, স্কুল শিক্ষকদের জন্যই আমরা বেকার হয়েও পর্যাপ্ত ছাত্রছাত্রী পাই না। এর আগেও সরকার এই ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছিল। তারপরও স্কুল শিক্ষকরা টিউশন ছাড়েননি। আমাদের মনে হয় এই আন্দোলনের পিছনে স্কুল শিক্ষকদের একাংশের মদত রয়েছে। সরকারি নির্দেশিকাকে মান্যতা দিয়ে এক পড়ুয়ার অভিভাবক সুপর্ণা গুহ বলেন, সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার বিরোধিতা করছি না। সরকার নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুল শিক্ষকদের কাছে ছয়-সাত মাস ধরে পড়ছে। আর সাত মাস পরে মাধ্যমিক। তাই আমরা চাই চলতি শিক্ষাবর্ষ শিক্ষকরা যাতে পড়াতে পারেন। আরেক পড়ুয়ার বাবা জয়দেব সাহার বক্তব্য, এখন মাঝপথে আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় পড়তে যাবে। অন্য জায়গায় পড়তে গেলে পিছিয়ে যেতে পারে।