Bartaman Logo
২৮ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গৌতমের বৃক্ষ প্রতিস্থাপন প্রকল্প অনুসরণ শঙ্করের

গৌতমের বৃক্ষ প্রতিস্থাপন প্রকল্প অনুসরণ শঙ্করের
  • ২৩ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দু’বছর আগে বৃক্ষ প্রতিস্থাপন কর্মসূচির সূচনা করেন শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। ইতিমধ্যে তাঁর নেতৃত্বে পুরসভা বিভিন্ন রাস্তার ধার থেকে গাছ তুলে বিভিন্ন স্থানে পুনঃস্থাপন করেছে। এবার সেই পথ কার্যত অনুসরণ করছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বৃক্ষ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গদকরির কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, দেরিতে হলেও বোধদয় হল বিজেপি বিধায়কের। সমগ্র ঘটনা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জোরচর্চা শুরু হয়েছে। 
Advertisement
শিলিগুড়ি শহরে উন্নয়নের পাশাপাশি বৃক্ষচ্ছেদন রুখতে তৎপর পুরসভা। এজন্য ২০২২ সালে মেয়রের নির্দেশে পুরসভার পরিবেশ বিভাগ চালু করে বৃক্ষ প্রতিস্থাপন কর্মসূচি। ইতিমধ্যে তারা সেভক রোড, বর্ধমান রোড, এসএফ রোড সম্প্রসারণের জন্য বিপুল সংখ্যক গাছ পুনঃস্থাপন করেছে। পুরসভা সূত্রে খবর, দু’বছরের সংশ্লিষ্ট তিনটি রাস্তার ধার থেকে প্রায় ২০০টি গাছ তুলে সূর্য সেন পার্কের কাছে, প্রকাশনগরে মহানন্দা নদীর চরে, শিলিগুড়ি গালর্স হাইস্কুলে, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের মাঠে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। শীঘ্রই এসএফ রোডের ধার থেকে আরও ২৬টি গাছ তুলে অন্যত্র রোপণ করা হবে। এ ব্যাপারে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। 
পুরসভার ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার বলেন, সবুজ রক্ষা করে উন্নয়ন করাই আমাদের লক্ষ্য। এজন্যই বৃক্ষ প্রতিস্থাপন প্রকল্প। যা রাজ্যে নজির সৃষ্টি করেছে। রাস্ত তৈরির নামে একের পর এক গাছ কাটা হলেও বিগত বামফ্রন্ট সরকার এ ধরনের প্রকল্প ভাবতেই পারেনি। 
এদিকে, শিলিগুড়ি শহরে জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে মাটিগাড়ার বালাসন সেতু থেকে ভক্তিনগর চেকপোস্ট পর্যন্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণ করার কাজ জোর কদমে চলছে। এজন্য সংশ্লিষ্ট রুটে প্রচুর গাছ কাটা হয়েছে। এরপর সেভক আর্মি ক্যান্টনমেন্ট থেকে সেভক বাজার পর্যন্ত রাস্তা সম্প্রসারণ হবে। সেখানেও প্রচুর গাছ কাটা পড়বে বলে আশঙ্কা। এই অবস্থায় ‘বন ধ্বংস’ কম করে রাস্তার তৈরির ব্যাপারে গত ২১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে তিনি গাছ না কেটে বৃক্ষ পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব মন্ত্রীকে দিয়েছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে নিয়ে বৃক্ষ রোপণে জোর দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তিনি একই প্রস্তাব জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের কাছেও পাঠিয়েছেন। 
এনিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ডেপুটি মেয়র বলেন, সিপিএমের ঘরে বড় হয়েছেন ওই বিধায়ক। বামফ্রন্ট জমানায় তাঁরা বৃক্ষ প্রতিস্থাপনের কথা কল্পনাই করতে পারেননি। গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে তিনি অহেতুক রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গলাফাটান। তবে এবার আমাদের দেখানো পথই ওঁকে অনুসরণ করতে হচ্ছে। দেরিতে হলেও ওঁর বোধদয় হয়েছে।                  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ