Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গত ১০ দিনে একাধিক হনুমানের মৃত্যু, উদ্বিগ্ন বনদপ্তর

গত ১০ দিনে একাধিক হনুমানের মৃত্যু, উদ্বিগ্ন বনদপ্তর
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গত দশদিনে জগৎবল্লভপুরে একাধিক হনুমানের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই বনদপ্তর বেশ কয়েকটি পূর্ণবয়স্ক ও শিশু হনুমানের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। কেউ বা কারা ষড়যন্ত্র করে হনুমানগুলিকে মেরে ফেলেছে বলে গ্রামবাসীদের একাংশ দাবি করেছে। পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির ধারণা, সম্ভবত বিষক্রিয়ার কারণেই মৃত্যু হয়েছে হনুমানগুলির। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বনদপ্তরও।
Advertisement
গত ১০ দিন ধরে জগৎবল্লভপুরের গোবিন্দপুর পঞ্চায়েতের বাটন দাসপাড়া গ্রামে একের পর এক হনুমানের মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রায়দিনই সকালে চাষের জমি কিংবা পুকুরের পাশে হনুমানের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন বাসিন্দারা। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বেশ অনেকদিন ধরেই এই এলাকায় একদল হনুমান দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল। হনুমানের আঁচড় ও কামড়ে বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী জখমও হয়েছেন। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছিলেন বাসিন্দারা। এরপর গ্রামে শিশু ও পূর্ণবয়স্ক হনুমান মিলিয়ে প্রায় দশটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দা দীপ্তেশ দাস বলেন, ‘হনুমানগুলির অস্বাভাবিক মৃত্যু দেখে বনদপ্তরকে খবর দিই। মোট তিনটি হনুমানের মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে গিয়েছেন বনকর্মীরা।’
বনদপ্তর জানিয়েছে, হনুমানগুলির দেহ কলকাতার বেলগাছিয়া ও হাওড়ার আমতায় ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ওই রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে। তবে তাদের দেহে আঘাতের কোনও চিহ্ন ছিল না। হাওড়া জেলা বনদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, শীতকালে অনেক সময় হনুমানের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তবে এখনও পর্যন্ত সেই অর্থে জাঁকিয়ে শীত পড়েনি। হনুমানের মৃত্যু নিয়ে গ্রামবাসীদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’ গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, মৃত হনুমানগুলির শরীরে বিষক্রিয়ার লক্ষণ ছিল। কারণ তাদের মুখ দিয়ে গ্যাঁজলা বেরিয়েছিল। পশুপ্রেমী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা সৌরভ দত্ত বলেন, ‘চাষের জমিতে যেভাবে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে, হয়তো সেখানে খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে বিষক্রিয়ার কারণে হনুমানগুলির মৃত্যু হয়েছে।’ একটি পরিবেশ সংগঠনের সম্পাদক শুভদীপ ঘোষ বলেন, ‘কেউ বা কারা যদি ষড়যন্ত্র করে হনুমানগুলিকে মেরে থাকে, সেক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে বনদপ্তরকে।’
সম্পর্কিত সংবাদ