


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘জিএসটি ২.০’ কার্যকর হওয়ার পর ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রান্ত। এখনও পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি) নয়া হারের সুবিধা বুঝে উঠতেই পারছেন না সাধারণ মানুষ। নিত্য ব্যবহারের সামগ্রীতে কত টাকা সাশ্রয় হবে? মাস শেষে সেই অঙ্ক কষতেই মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়! তবু উত্তর মিলছে কই। এই পরিস্থিতিতে সামনে আসছে বণিকসভা ‘ফিকি’র নয়া সমীক্ষা রিপোর্ট। সেখানে সাফ জানানো হয়েছে, জিএসটির নয়া হার কার্যকর হওয়ার পর মধ্যবিত্ত পরিবারে প্রতিমাসে মাথাপিছু সাশ্রয় হবে মাত্র ৫৮ থেকে ৮৮ টাকা। এই পরিসংখ্যান সামনে আসায় ‘জিএসটি ২.০’ নিয়ে মোদি সরকারের উচ্চকিত প্রচার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। শুধু তা-ই নয়, আরও একটি বিষয় সামনে আসছে। জিএসটির নয়া হার কার্যকর হওয়ার পরও বহু পণ্যই এখন খানিক সস্তা। কিন্তু সেগুলির ওজন বা পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে দাম কমানো এড়াতে চায় অনেক কোম্পানি। শিল্পমহল এব্যাপারে আর্জি জানিয়েছে বণিকসভাগুলির কাছে। তারপরই একাধিক বণিকসভা চিঠি দিয়েছে অর্থমন্ত্রককে। জানতে চাওয়া হয়েছে—‘যদি কোনও পণ্যের ওজন বাড়িয়ে দাম একই রাখা হয়, সেটি কি জিএসটি সংস্কার নীতির পরিপন্থী হিসেবে গণ্য করা হবে?’
জিএসটির নতুন হারের সুফল সম্পর্কে জানতেই ‘থট আর্বিট্রেজ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে’র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে সমীক্ষা চালিয়েছিল ‘ফিকি’। সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জানাচ্ছে, করকাঠামোর এই সংস্কার শহুরে ও গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা পরিবারগুলিকে কিছুটা স্বস্তি দেবে। গ্রামীণ পরিবারগুলিতে নিত্যব্যবহৃত পণ্যগুলির ৭৫.৫ শতাংশই এখন হয় জিএসটি-মুক্ত নয় ৫ শতাংশ জিএসটির আওতায়। শহরে সেই হার ৬৬.২ শতাংশ। তার সুবাদেই পরিবারগুলিতে মাথাপিছু ৫৮ থেকে ৮৮ টাকা প্রতিমাসে সাশ্রয় হবে। এই সামান্য সাশ্রয়কে কি ‘উৎসব’ বলা যায়? প্রশ্ন তুলছে জনতা।
যদিও সবথেকে বড় প্রশ্ন এখন হল, জিএসটি কমানোর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম কি আদৌ কমবে? কারণ, অনেক সংস্থাই চাইছে ‘প্রাইস ট্যাগ’ বা ‘এমআরপি’ যেন না বদলাতে হয়। সেটা অবশ্য মূলত দু’টি কারণে। জিএসটি কমে যাওয়ার জেরে বহু পণ্যের দামে টাকার সঙ্গে কিছু পয়সাও যুক্ত হয়েছে। যে বিস্কুটের দাম ছিল ৫ টাকা, সেটাই হয়েছে হয়তো ৪ টাকা ৪৫ পয়সা। ইউপিআই পেমেন্ট ছাড়া যা মেটানো সম্ভব নয়। আর দ্বিতীয় সমস্যা হল, পোশাক অথবা ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে ‘ম্যাজিক প্রাইসিং’, অনলাইন শপিংয়ে যা অত্যন্ত কার্যকরী। অর্থাৎ ‘প্রিন্ট প্রাইস’ ১৯৯ টাকা, ৪৯৯ টাকা ইত্যাদি রাখা, যাতে ক্রেতাদের কাছে প্রথম দর্শনেই আগ্রহ বেড়ে যায়। জিএসটি কমে যাওয়ার জন্য এইসব পণ্য আর ওই ম্যাজিক প্রাইসিং রাখতে পারছে না। সেই কারণেই তারা চাইছে খাদ্য অথবা নিত্যপণ্য, ভোগ্যপণ্যেরও ওজন বা পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়ে আগের দাম বজায় রাখতে। এতে কি জিএসটি নীতির অমান্য করা হবে? একাধিক বণিকসভা চিঠি দিয়ে এই প্রশ্ন করেছে অর্থমন্ত্রককে।
সরকারের তরফে অবশ্য ইতিমধ্যেই পণ্যের দাম কমানোর বিষয়টিতে নজরদারির জন্য একটি সেন্ট্রাল মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্পমহল চায় না সরকারের নীতি লঙ্ঘন করতে।। কিন্তু তারা এই স্বাধীনতা পেতে চাইছে যাতে, তাদের পণ্যের ওজনের হেরফের ঘটিয়ে দাম একই রাখার অনুমতি দেওয়া হয়।