নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। আদালতের এই হুঁশিয়ারিতে চার মাসের খোরপোশের টাকা বৃদ্ধা মায়ের হাতে তুলে দিলেন ছেলে। শুধু তাই নয়, বৃদ্ধার ছেলে সঞ্জয় সামন্ত মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে এ নিয়ে বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, এমন ভুল আর হবে না। কোর্টের নির্দেশ তিনি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন। বিচারক তাঁকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, নিজে খাচ্ছেন, পড়ছেন। অথচ মাকে মাসে মাসে খোরপোশের টাকা দিতে সমস্যা কীসের? এটা চলতে পারে না। মাসের প্রথম সপ্তাহে মাকে খোরপোশের টাকা মেটাতে হবে।
Advertisement
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার এন্টালির আনন্দ পালিত রোডের বাসিন্দা বৃদ্ধা পলি সামস্ত ২০২৩ সালে মার্চ মাসে শিয়ালদহ আদালতে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে খোরপোশের মামলা করেছিলেন। বৃদ্ধার অভিযোগ, প্রতি মাসে তাঁর ওষুধের জন্য টাকা দরকার। কিন্তু সঞ্জয় এ বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয় না। তাঁকে দেখভালও করে না। তাই তিনি বাধ্য হয়েই মানিকতলায় মেয়ে‑জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। এরপর তিনি ছেলের বিরুদ্ধে খোরপোশের মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে বিচারক এক অন্তর্বর্তী রায়ে প্রতি মাসে মাকে চার হাজার টাকা করে খোরপোশ দিতে নির্দেশ দেন সঞ্জয়কে। বৃদ্ধার অভিযোগ, গত চার মাস ধরে তিনি টাকা পাচ্ছেন না। ফলে বাধ্য হয়েই তিনি ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বিচারক ছেলের উদ্দেশে বলেন, মাকে খোরপোশের বকেয়া টাকা এখনই মেটাতে হবে। না হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। আদালতের গুঁতোয় তড়িঘড়ি ওই টাকা দিয়ে দেন সঞ্জয়। বৃদ্ধার বক্তব্য, কোনও মা তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা করতে চান না। কিন্তু পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বাধ্য হয়েই তাঁকে মামলা করতে হয়েছে। সঞ্জয় সামন্ত বলেন, আদালতের নির্দেশ মেনে মাকে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিয়েছি।



