Bartaman Logo
২৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একান্নবর্তী পরিবারে বড়ো হয়ে মাধ্যমিকে সপ্তম স্বর্ণাভ

নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি নয়, একান্নবর্তী পরিবারে সকলের মধ্যে থেকেই যে পড়াশোনায় সাফল্য অর্জন করা যায়, তা প্রমাণ করে দিল নবদ্বীপের স্বর্ণাভ সরদার।

একান্নবর্তী পরিবারে বড়ো হয়ে মাধ্যমিকে সপ্তম স্বর্ণাভ
  • ৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি নয়, একান্নবর্তী পরিবারে সকলের মধ্যে থেকেই যে পড়াশোনায় সাফল্য অর্জন করা যায়, তা প্রমাণ করে দিল নবদ্বীপের স্বর্ণাভ সরদার। মা, বাবা, দুই জেঠু, জেঠিমা, দাদা, ঠাকুরমা সবার তালিমে মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে সপ্তম স্থান অধিকার করেছে সে। একইভাবে তার দাদা অয়ন সরদারও সাফল্য পেয়েছিলেন। তিনি এখন আরজি কর মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র।

Advertisement

ভাইয়ের সাফল্যে দাদা অয়নও আনন্দে উচ্ছ্বসিত। স্বর্ণাভ জানিয়েছে, দাদাই তার অনুপ্রেরণা। পড়াশোনায় উৎসাহ আর উদ্দীপনার নেপথ্যে একান্নবর্তী পরিবারের সব সদস্যের সহযোগিতার কথা কবুল করেছে সে। বড় হয়ে স্বর্ণাভ দাদার মতো ডাক্তার হতে চায়। দাদার ইচ্ছে জেনারেল মেডিসিন নিয়ে পড়া, আর স্বর্ণাভ চায় ছুরি-কাঁচি ধরে সার্জেন হতে।
স্বর্ণাভের, বাবা সজল সরদার বলেছেন, আমরা একান্নবর্তী পরিবারে থেকে মানুষ হয়েছি। শিক্ষাদীক্ষা পেয়েছি। সেই ধারা আমাদের পরিবারে বজায় রয়েছে। সেটা ফের প্রমাণ করে দিল স্বর্ণাভ। আমাদের যৌথ পরিবার। আমার ছেলে আমার কাছে ইতিহাস ভূগোল বাংলা পড়ত। আর আমার দাদা চন্দন সরদারের কাছে অঙ্ক ও জীবন বিজ্ঞান পড়ত। আমার এবং দাদার কাছে পড়াশোনা করলেও ওর মাও ওকে গাইড করত। স্বর্ণাভর পরিবারে ৮ জন সদস্য। স্বর্ণাভ তার সাফল্যের যাবতীয় কৃতিত্ব দিয়েছে পরিবারের সকল সদস্যকে। 
জ্যাঠতুতো দাদা আরজি কর মেডিকেল কলেজের ফাইনাল ইয়ারের ডাক্তারি পড়ুয়া দাদা অয়ন সরদার বললেন, স্বর্ণাভ আমার খুডতুতো ভাই। আমি ভীষণ খুশি। ওর মধ্যে শেখার আগ্রহ রয়েছে।
স্বর্ণাভ জানায়, আমি আগামী দিনে ডাক্তার হতে চাই। আমার দাদা আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের ফোর্থ ইয়ারে পড়ছে। দাদাকে অনুসরণ করে একই দিকে যাওয়ার চেষ্টা। কেন না আমার চলার পথে দাদার থেকে সাহায্য পাব। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ সমস্ত শিক্ষকরা সহযোগিতা করেছেন। তাঁদের অবদান ভোলার নয়। বাবা, জেঠু বাদে পাঁচজন গৃহশিক্ষক ছিলেন। তাঁদের কাছে পড়া করে এসে বাড়িতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পড়তাম। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই জেঠুর কাছে আমি অংক, জীবন বিজ্ঞান পড়েছি। বাবার কাছে ইতিহাস ও বাংলা পড়েছি। আমার মনে হয় ভালো রেজাল্ট করতে গেলে টেক্সট বুকের সাথে সহায়িকা ভালোভাবে পড়ার প্রয়োজন। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রিকেটও খেলতে ভালোবাসি। মা তুলসী সরদার দাস বলেন, ছেলেকে পড়াশুনার জন্য কখনই বলতে হত না। খুবই পরিশ্রমী ছেলে। ছোটবেলায় আমার কাছে হাতেখড়ি। জেঠিমা কাজল সরদার বলেন, আমার ছেলে অয়ন ডাক্তারি পড়ছে। দাদার পথ অনুসরণ করেই এগিয়ে চলেছে স্বর্ণাভ। নবদ্বীপ বকুলতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর সাহা জানান, ছোটবেলা থেকেই স্বর্ণাভ প্রতি বছর বিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অর্জন করত। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধূলা এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও ওর আগ্রহ ছিল উল্লেখযোগ্য। স্বর্ণাভ এবার মাধ্যমিকে রাজ্যের মধ্যে সম্ভাব্য সপ্তম হয়েছে। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। স্বর্ণাভ বাংলায় পেয়েছে ৯৪, ইংরেজিতে ৯৮, অঙ্কে ১০০, ভৌত বিজ্ঞানে ৯৯, জীবন বিজ্ঞানে ১০০, ইতিহাসে ১০০ এবং ভূগোলেও ১০০। • পরিবারের সঙ্গে স্বর্ণাভ। নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ