সংবাদদাতা, হলদিয়া: অতিবৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির জেরে কারখানায় কাজে অনুপস্থিতির জন্য বেতন না কাটার আবেদন জানিয়ে হলদিয়ার শিল্প সংস্থাগুলিকে নোটিস পাঠাল শ্রম দপ্তর। মঙ্গলবার জেলার বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকের সময় শ্রম দপ্তরকে ওই নোটিস পাঠানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই বুধবার বিকেলে হলদিয়ার যুগ্ম শ্রম কমিশনার সুদীপ্ত সামন্ত হলদিয়ার ৪১টি শিল্প সংস্থাকে শ্রমিক স্বার্থে আবেদন জানিয়ে চিঠি পাঠান।
রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় হলদিয়ার বহু শ্রমিক কারখানায় কয়েকদিন ধরে কাজে যোগ দিতে পারেননি। অনেকের বাড়িঘরও ডুবে গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকার ঠিকা শ্রমিকরা ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত প্রবল বৃষ্টি ও জলমগ্ন পরিস্থিতির কারণে ডিউটিতে অনুপস্থিত ছিলেন। চুক্তিভিত্তিক ওই শ্রমিকরা কাজে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁদের বেতন বা মজুরি থেকে কোনও টাকা কাটা যাবে না। এই মর্মে শ্রম দপ্তর কারখানাগুলির প্রধানদের নোটিস পাঠিয়েছে। ঠিকাদারের অধীন হলেও ওই শ্রমিকদের মূল নিয়োগকারী যেহেতু সংশ্লিষ্ট শিল্প সংস্থা, সেজন্য তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।
গত ৭দিন ধরে জলমগ্ন হলদিয়া শিল্পাঞ্চল। শিল্প কারখানাগুলিতে জল ঢুকে পড়ায় কয়েকটিতে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার সন্ধে পর্যন্ত ১০-১২টি শিল্প সংস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি। ভোজ্যতেল সংস্থাগুলি উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছে। পুরো মাত্রায় উৎপাদন শুরু করতে আরও ৪-৫দিন সময় লাগবে। একটি স্টিল পাইপ উৎপাদন সংস্থা এখনও উৎপাদন শুরু করতে পারেনি। একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থা তাদের একটি ১৫০ মেগাওয়াট ইউনিট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ওই কারখানাগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ শ্রমিক কাজে যোগ দিতে পারছেন না।
হলদিয়া শিল্পাঞ্চল থেকে শতাধিক গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে রাস্তা জলে ডুবে থাকায়। এরমধ্যে হলদিয়া, মহিষাদল ও সুতাহাটা রয়েছে। সুতাহাটার বিডিও সৌরভ মাজি বলেন, ৮১টি গ্রামই জলের তলায় চলে গিয়েছিল। আপাতত জল সরে গেলেও এখনও ৫০টি গ্রামের রাস্তা জলমগ্ন। বিভিন্ন লকগেট দিয়ে জল নামায় তিন চার দিনের মধ্যে কিছুটা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারে। ত্রাণ পৌঁছতে কয়েকটি গভীর এলাকায় এনডিআরএফের বোট নামাতে হয়েছে। ত্রাণ শিবির থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ বাড়ি ফিরেছেন।
এদিকে, শহর ও লাগোয়া গ্রাম এলাকায় টানা তিন দিন বিদ্যুৎহীন থাকার পর বুধবার দুপুর থেকে ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। হলদিয়ার বিধায়ক প্রদীপ বিজলি হাসপাতাল থেকে ফিরেই ত্রাণ নজরদারির কাজ শুরু করেছেন। নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির হলদিয়া শহর আঞ্চলিক শাখার উদ্যোগে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চকতাড়োয়ান এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।