নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: কেএমডিএ’র ড্রেন তৈরির কাজ বন্ধ করিয়ে গারুলিয়া পুরসভায় ঢুকে দাদাগিরির অভিযোগ উঠল এক নির্দল কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরে পুরসভায় ঢুকে বিভিন্ন বিভাগের কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মকসুদ হাসানের বিরুদ্ধে। চেয়ারম্যানের সঙ্গেও বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন ওই নির্দল কাউন্সিলার।
Advertisement
পুরসভা সূত্রের খবর, এদিন সকালে প্রথমে ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কেএমডিএ’র ড্রেন তৈরি করার কাজ বন্ধ করে দেন মকসুদ। তারপর সকাল ১১টা নাগাদ পুরসভায় হাজির হয়ে তাঁর ওয়ার্ডে কোনও কাজ হচ্ছে না বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। বিভিন্ন বিভাগে গিয়ে পুরকর্মীদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন। আচমকা এই ধরনের ঘটনায় হকচকিয়ে যান কর্মীরা। তাঁরা কাজ বন্ধও করে দেন। সমস্যায় পড়ে সাধারণ মানুষ। ওই কাউন্সিলার বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে কোনও কাজ দেওয়া হচ্ছে না। বৈষম্য করা হচ্ছে। চেয়ারম্যানকে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। কোনও লাভ হয়নি। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়ে পুরকর্মীদের কাছে হাতজোড় করে কাজ বন্ধ করতে বলেছি।’ যদিও পুরকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, রীতিমতো হুমকির সুরে ওই কাউন্সিলার কাজ বন্ধ করতে বলেন। অসুস্থতার কারণে এদিন প্রথমে পুরসভায় আসেননি চেয়ারম্যান রমেন দাস। তাঁর কাছে এই খবর পৌঁছলে তিনি নোয়াপাড়া থানার পুলিসকে বিষয়টি ফোনে জানান। পুলিস এলে তাদের সঙ্গেও তর্কাতর্কি বেধে যায় মকসুদের। তখন অসুস্থ শরীরে স্যালাইনের বোতল হাতে নিয়েই পুরসভায় আসেন চেয়ারম্যান। চলে আসেন ভাইস চেয়ারম্যান অশোক সিং, চেয়ারম্যান পরিষদের সদস্য গৌতম বসু। চেয়ারম্যান আলোচনার জন্য মকসুদকে তাঁর ঘরে ডেকে পাঠান। দু’জন বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একসময় অভিযুক্ত কাউন্সিলার চেয়ারম্যানের দিকে তেড়ে গেলে সেখানে উপস্থিত বাকিরা রুখে দাঁড়ান। পুলিস বিক্ষুব্ধ কাউন্সিলারকে বের করে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুরসভার সামগ্রিক উন্নয়নে আমরা জোর দিয়েছি। তাই উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও বৈষম্য হয় না।’



