Bartaman Logo
১১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

গ্রেট ব্লু হোল

আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী

গ্রেট ব্লু হোল
  • ২৬ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী

Advertisement

ত্তর আমেরিকার বেলিজ দেশে একটা অদ্ভুত সমুদ্রতট রয়েছে। সেখানে সমুদ্রে নামতে ভয় পায় লোকে। স্থানীয় মানুষজনের বিশ্বাস, ওখানে জলে কোনও অপদেবতার প্রভাব রয়েছে। নাহলে সমুদ্রে সাঁতার কাটতে নেমে খামোখা মানুষ ডুবে যাবে কেন? বিভিন্ন সময় নানারকম দুর্ঘটনা ঘটেছে ওই সমুদ্র সৈকতে। জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পাশাপাশি অনেকে জলে ডুবে বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন। পরপর এমন ঘটনার পর একদল বিজ্ঞানী এই রহস্যের কিনারা করার উদ্যোগ নিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এর নেপথ্যে প্রাকৃতিক কোনও কারণ থাকলেও তা খুঁজে বের করা দরকার। অনেক গবেষণার পর রহস্য ভেদ হল। জানা গেল অপদেবতার গ্রাস নয়, বরং প্রকৃতিই ডুবিয়ে মারছে মানুষজনকে। সমুদ্রপৃষ্ঠে রয়েছে এক বিশাল বড় গর্ত! গহ্বরও বলা চলে তাকে। নীল জলে ঢাকা পড়ে থাকে তাই তার অস্তিত্ব বোঝা দায়।  
যাইহোক, ডুবে যাওয়ার কারণটা তো আবিষ্কার করা গেল। যিনি এই গর্তটি অবিষ্কার করেছিলেন, তিনি হলেন বিজ্ঞানী জাঁক কস্টিউ। ১৯৭১ সালে তিনি এই আবিষ্কারটি করেন। তাঁর গবেষণায় দেখা গিয়েছে এই বিশাল গর্ত কিন্তু হঠাৎ তৈরি হয়নি। হয়েছে একটি বিশেষ ভৌগোলিক কারণে। সেটা ছিল তুষার যুগের শেষ ভাগ। পৃথিবীর চারদিকে হিমবাহ, বরফ খণ্ড ইত্যাদি। বাকি প্রকৃতি বেশ রুক্ষ। হিমবাহের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে একটা গুহা। লাইমস্টোন কেভ। তারপর শুরু হল আবহাওয়ার পরিবর্তন। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে নানা ধরনের বদল ঘটতে থাকল। বরফ গলতে শুরু করল। হিমবাহগুলি সব গলে গিয়ে চারদিকে জলের বন্যা। থইথই জলে মাটি ভিজতে শুরু করল। জলে ঢাকা পড়ল অনেক উঁচু স্থান। এমন পরিস্থিতি হল, যে লাইমস্টোন কেভের মাথার উপর দিয়ে জলের স্রোত বইতে লাগল। এক সময় জলের দাপট নিতে না পেরে গুহার ছাদ বা মাথাখানা পড়ল ভেঙে। ব্যস, তৈরি হল বিরাট বড় এক গর্ত। 
মজার কথা হল এই গর্তও কিন্তু একদিনে বা একবারে তৈরি হয়নি। গবেষণা বলে বহু শতক ধরে একটু একটু করে তৈরি হয়েছে এই গ্রেট ব্লু হোল। সমুদ্রের জলে ঢাকা থাকে বলে নীল গহ্বর নামকরণ। নীল জলরাশি ক্রমাগত বয়ে যাচ্ছে এই গর্তের উপর দিয়ে। সব মিলিয়ে তার রং নীলচেই হবে তাতে আর সন্দেহ কী? 
জল ক্রমাগত বয়ে চলায় ক্ষয় হয়েছে চুনাপাথরের। তার গায়ে নীলচে রং ধরেছে। এই গুহা ভাঙতে শুরু করে শতাধিক বছর আগে থেকে। একটু একটু করে ভাঙতে ভাঙতে তা বিশালাকার গর্তে পরিণত হয়। আর সেই গর্তই বেলিজ সমুদ্রতলে 
সৃষ্টি করে এক অনন্য রহস্য। গ্রেট ব্লু হোল নিয়ে বিজ্ঞনীদের নানারকম পরীক্ষানিরীক্ষা আজও চলছে। গুহার পাথর থেকে সেই সময়কার ভূতত্ত্ব জানার চেষ্টা করছেন গবেষকরা। ২০১৮ সালে এরিকা বার্গম্যান নামে এক বিজ্ঞানী এই সিঙ্কহোল পরিদর্শন করতে নেমেছিলেন তাঁর দল নিয়ে। সেই দলে অন্যতম বিজ্ঞানী হিসেবে ছিলেন জাঁক কস্টিউয়ের নাতি ফেবিয়ান কস্টিউ।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ